কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ আবার ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩০ মার্চ তার মরদেহ
কবর থেকে তোলা হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি
একেএম মনজুর হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ
জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জয়নাব বেগম নিহত তনুর মরদেহের আবারো ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান তদন্ত কর্মকর্তারা। এজন্য হত্যার শিকার হওয়ার সময় তনুর পরনের পোশাকে থাকা ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগে পাঠানো হয়।
ওসি মনজুর হোসেন বলেন, তনুর মরদেহের নতুন করে ময়না তদন্তের জন্য আমার সম্ভাব্য ৩০ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছি। এ জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিনের সংশ্লিষ্টরাও ওই সময় উপস্থিত থাকবেন।
মামলটির তদন্ত ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তনুর মরদেহ যে স্থানে এবং যেভাবে পড়ে ছিল তাতে তদন্ত কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন তনু ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে কিনা। নাকি তনুকে হত্যার পর লাশ পাহাড় হাউসের রাস্তার কালভার্টের পাশের জঙ্গলে এনে ফেলা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, নিহত তনুর লাশ যেভাবে পড়ে ছিল এবং যেভাবে একের পর এক তার জুতা, কাঁটা চুল ও মোবাইল ফোন পড়েছিল তাতে নানা প্রশ্নের তৈরী হয়েছে। তাছাড়া ঘটনাস্থলে কনডমের একটি খালি প্যাকেটও পড়েছিল অথচ কোন লুব্রিকেট বা তার প্যাকেট ছিল না।
তনুর হত্যা তদন্তে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেটি হচ্ছে তার চুল কেন কাঁটা ছিল। চুলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে কে? বা কেন? চুল কাঁটা এবং তনুর মুখে, কানে ও হাঁটুতে খুব সামান্য আঘাত এবং কামিজ দুই দিক থেকে ছেড়া এ থেকে নতুন একটি ধারণা জন্মাচ্ছে যে, তনুর এই নির্মম ঘটনার মধ্যে কোন নারীর হাত আছে কিনা?
জানা গেছে, তনুকে উত্যাক্ত করতো যে যুবক তাকে র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ঐ যুবক এখন তার বাসাতেই রয়েছে। তবে তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইলফোনের কল লিষ্ট সংগ্রহের অপেক্ষায় আছে তদন্ত কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত গার্ডসহ ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
গত ২০ মার্চ রোববার রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাহাড় হাউসের কাছের
জঙ্গলে পাওয়া যায় সোহাগী জাহান তনুর লাশ। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদি
হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তনু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এরপর থেকে মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে পুরো দেশজুড়েই।







