রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে মাহমুদ হাবিব হিমেল নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে একটি ট্রাক। যে ক্যাম্পাসকে হিমেল তার জ্ঞান ও জীবন গঠনের নিরাপদ আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছিল, সেই ক্যাম্পাসেই তার করুণ মৃত্যু হলো। বিষয়টি নিয়ে উত্তাল ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকা। হিমেলের মৃত্যু দাগ কেটেছে সারাদেশের মানুষের মনেও।
হিমেলের মৃত্যুর দিনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় কমবেশি ১৫/২০ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে গণমাধ্যমে। যা প্রতিদিনের করোনায় মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
নিরাপদ সড়কের দাবি এদেশে একটি নিত্য বিষয় বলে বিবেচিত হচ্ছে। কোনো মৃত্যুর ঘটনা আলোচিত হলে কিছুটা আন্দোলন হয়, সংবাদ শিরোনাম থেকে শুরু করে টক শো’তে আলোচনা হয়, কিছুদিন পরে আবার যা তাই হতে থাকে। বলতে বাধা নেই, দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো বহু আগে থেকেই যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
অদক্ষ চালক থেকে শুরু করে নানা অনিয়মের বলি হয় সাধারণ মানুষ। প্রায় সব দুর্ঘটনার পরই নানা অনিয়মের কারণ উঠে আসে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইনও যথাযথভাবে মানা হয় না। ফলে দিনের পর দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা আর দুর্ঘটনায় মৃত্যু।
দেশের সড়কে কড়াকড়ি ও নতুন নতুন আইন এলেও খুব একটা পরিবর্তন যে হচ্ছে না, তা প্রতি মাসে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা দেখের বোঝা যাচ্ছে। অদক্ষ চালক, সড়কের বেহাল অবস্থা, সড়কে বেপরোয়া যান চালানো, ওভারটেক করাসহ নানা কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়ে থাকেন বিভিন্ন সময়ে।
সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া খুবই জরুরি। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন কাজ করা পরিবহন শ্রমিক-চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সিলিংসহ আইনের বিষয়ে সচেতন করা দরকার। আমাদের আশাবাদ, এ সংশ্লিষ্ট সবাই সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তায় কাজ করবেন।








