নিজ জমিতে ঘর তুলতে গেলে পারভেজ তার আপন বোন নদীর কপালে কোদাল দিয়ে আঘাত করেন। প্রায় মাসখানেক চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেলেন ইয়াসমিন আক্তার নদী (৩২)। নিহত নদী বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির ক্রাইমওয়াচ টিমের স্টাফ রিপোর্টার প্রয়াত সোহানুর রহমান সোহানের স্ত্রী। এঘটনায় মামলা দায়েরের পরে ঘাতক বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৩ মার্চ সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হবার পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে চিকিৎসা চলে তার। শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নদী মারা যান।
নিহত নদীর মা হেনু বেগম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমার মেয়ের জামাই সোহানের কেনা দুই শতাংশ জমিতে ঘর তুলতে গেলে বড় ছেলে পারভেজ আমার ছোট মেয়ে নদীকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে। মাসখানেকের মতো চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল নদী মারা যায়।
হেনু বেগম বলেন, পারভেজ আমার ছেলে হলেও আমি ন্যায় বিচার চাই। আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।
নদীর স্বামী সোহানুর রহমান সোহান ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টারস (ক্রাইম ওয়াচ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য ছিলেন।
এনটিভির চিফ অব করেসপন্ডেন্ট ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ফকরুল আলম কাঞ্চন জানান, আপন বড় ভাই ও তার লোকজনের দ্বারা হামলার শিকারের পর মারা গেলেন সোহানের স্ত্রী।
নদীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি আবুল খায়ের চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: নদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দেড় বছর আগে সোহান অসুস্থ হয়ে মারা যাবার পর দুই সন্তান নিয়ে খুব অসহায় ছিলেন তার স্ত্রী নদী। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে নদীর আপন ভাইয়ের দ্বারা যে হামলার শিকার হয় সেটা ন্যক্কারজনক। ওই হামলার পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার নদীর মৃত্যু হয়। ক্র্যাব এ ঘটনায় নিন্দা জানায়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, চলতি বছরের ১৩ মার্চ সকালে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে নদীর ওপর তার আপন ভাই ও তার সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এরপরই নদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডের বি-৭০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনি বলেন, হামলার পরই নদীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। সে প্রেক্ষিতে আমরা নদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নদীর বড়ভাই মো. সাইফুল ইসলাম পারভেজকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকে পারভেজকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।








