রাজধানীর বনানীতে “দ্য রেইট ট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে প্রত্যেক ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ‘ছাত্র-শিক্ষক-লেখক-শিল্পী-সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীবৃন্দ’।
বুধবার সন্ধ্যায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বরে ‘সারা দেশে ধর্ষণ, সহিংসতা প্রতিরোধে ধর্ষকদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি’ শীর্ষক এক সমাবেশে তারা এমন দাবি তোলেন।
সমাবেশের আয়োজকদের একজন অ্যাক্টিভিস্ট জাকিয়া শিশির বলেন, দেশে ধর্ষণের কোনো বিচার না হওয়ায় আজ এ অবস্থা। গত এক বছরে যতো ধর্ষণ হয়েছে তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ শিশু। ধর্ষণের থেকে বাঁচতে প্রত্যেক নারীকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
সমাবেশের আরেক আয়োজক জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন: বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলের ভূমিকা খুবই সন্দেহজনক। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করুন।
“আর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ টাকার জোরে তার ছেলের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের টাকার উৎস আপন জুয়েলার্সের পণ্য বর্জন করতে হবে”।
সমাবেশে অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ মাহবুব বলেন, লড়াইটা শিক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাঠ্যবইয়ে এমন কিছু রাখা যাবে না যেটায় বোঝা যায় নারী পুরুষের চাইতে কম মানুষ। সেভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রেও এমন কিছু করা যাবে না যাতে মনে হয় নারী পুরুষের চাইতে কম মানুষ।
‘‘সেদিন বনানীর ওসি মামলা নেননি, মামলা নিতে দেরি করেছেন। কিন্তু তার ঊর্ধ্বতন লোকজন কেন বিষয়টির সুরাহা করেননি। ডিসি, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন মামলা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেননি”।
লেখক ও কাটুনিস্ট আহসান হাবীব বলেন: আামাদের প্রধানমন্ত্রী স্পীকার বিরোধীদলের নেত্রী নারী। তারপরেও নারী নির্যাতিত হচ্ছে। প্রত্যেকটা ধর্ষণের বিচার হতে হবে। যে সব পুলিশ মামলায় অসহযোগিতা করেছে তাদের বিচার করতে হবে।
শিল্পী অরুপ রাহী বলেন, এই সমাজে ধর্ষকরা ধর্ষণ করে কিভাবে নিশ্চিত মন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সেটা কই থেকে আসে, কারণ সমাজ বা রাষ্ট্র ধর্ষণের বিচার করেনি। সমাজে ধর্ষণ সহ নানান জুলুম হচ্ছে, এসবের বিচার দ্রুত করতে হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ বলেন, সোহাগী জাহান তনু থেকে শুরু করে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতি চাকমা, গাজীপুরের বাবা মেয়ের আত্মহত্যা কোনো কিছুর বিচার এই সমাজে হয় নি।
‘‘সমাজ বাস্তবতায় নারী ও শিশুরা অনিরাপদ। আগামী দিনে তাদের জন্য সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে দুষ্কিতকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে”।
সমাজকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট সংগীতা ইমাম বলেন, একাত্তরের মানবতা বিরোধীদের বিচার হলে এই ধর্ষকদেরও বিচার হতে হবে। আমরা প্রত্যেকে নারী পুরুষ পর্যায়ে নই মানুষ পরিচয়ে বাঁচব।

লেখক, ব্লগার ও সাংবাদিক আরিফ জেবতিক বলেন: স্বাধীনতা যুদ্ধে আামাদের দুই লক্ষ মা বোন তাদের সম্ভ্রব দিয়ে এ দেশ বানিয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও দেশ মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। রাষ্ট্র ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
‘‘সংসদে কেন বলা হচ্ছে ধর্ষণকারীকে ১৮ বছরের নীচে হলে তুমি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিয়ে করতে পারবে”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুতপা ভট্রাচার্য বলেন: আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমরা পুরুষদের নোংরা চাহনি দেখতে চাইনা। আপনারা পুরুষ থেকে মানুষ হন।
মানবাধিকার কর্মী খুশী কবীর বলেন, এ রাষ্ট্রে অনিয়মে ছেয়ে গেছে। ধর্ষণ, কুপিয়ে হত্যা, মুক্ত চিন্তার হত্যা। সংবধিানে স্পষ্ট বলা আছে প্রত্যেকটা মানুষের সমান অধিকার।
‘‘আমরা প্রত্যেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলি ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে।কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। দেশে আইন আছে আইনের প্রয়োগ নেই’’।
সমাবেশ থেকে রাজধানীর বনানীতে “দ্য রেইট ট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ অভিযুক্তদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।






