কোটা বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একই সঙ্গে কোটা বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতেও ভূষিত করে তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানোর কথা বলেন তারা।
এছাড়াও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের কথাও জানান আন্দোলনকারীরা।
প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা সাদরে গ্রহণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকেই আন্দোলনকারীরা আনন্দ মিছিল শুরু করেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির দাবি
১. কোটা সংস্কার মেনে নেয়ায় ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং গেজেট অাকারে প্রকাশ করে অতি দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. আটক আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি
৩. পুলিশি নির্যাতনে আহত সকল শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে অতি দ্রুত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ।
৪. পুলিশ ও ঢাবি প্রশাসনের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা ৫টি মামলা প্রত্যাহার।
৫. আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দকে কোনো রকম হয়রানি করা হলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আবার আন্দোলন।
৬. আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী এবং সহমত পোষণ করা সকলকে ধন্যবাদ।

কয়েকদিন ধরে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।
এ দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোটা থাকলেই আন্দোলন হবে, আজ এরা-কাল আরেকজন আসবে। এর থেকে আমি মনে করি কোটা পদ্ধতিই বাতিল করাটাই ভালো হবে।’
এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখে সরকারি চাকরিতে কোটা না রাখার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নারীসহ তরুণ শিক্ষার্থী এবং জেলা পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা যেহেতু কোটা চায় না, তাই কোটা পদ্ধতি রাখার দরকার নেই। সেই সঙ্গে, আন্দোলনকারীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ শেষে আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও সংবিধান পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঘোষণা করার কথা জানানো হয়।
গত রোববার পাঁচ দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে পূর্ব ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
সেদিন রাতভর সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের তাণ্ডব। আক্রান্ত উপাচার্যের বাসভবনও। প্রতিটি কক্ষে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে একদল মুখোশধারী।
পরেরদিন সোমবার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সরকারের প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনার পর ১ মাসের জন্য চলমান অান্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।
তবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে সোমবার রাতেই রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয় কোটা সংস্কার দাবি করা সাধারণ আন্দোলনকারীরা।
এ সময় তারা সরকারের সাথে আলোচনায় বসা কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত ঘোষণা’ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবি না মানলে পরদিন ১৬ এপ্রিল সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীতে এসে আন্দোলন করবে বলেও জানানো হয়।
নতুন করে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা নিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন।









