পুলিশি হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে গেছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের সমাবেশস্থলে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এর বার্তা নিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন।
চলমান আন্দোলনের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে ক্যাম্পাসে এসেছেন বলে জানান নাদেল। এ সময় ‘ন্যক্কারজনক হামলার’ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে নাদেল বলেন, ‘এক ব্যক্তির হাতে বিশ্ববিদ্যালয় জিম্মি হতে পারে না। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
সোমবার দুপুর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গণসাক্ষর সংগ্রহ করছে শিক্ষার্থীরা। সাক্ষর দিয়ে নাদেল এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন হল থেকে একের পর এক মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
গোলচত্বর থেকে মিছিল নিয়ে সোমবারের মতো উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরিয়াল কমিটি এবং ছাত্র উপদেষ্টাকেও সরে যেতে হবে।
গত রোববার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, তাই তার পদত্যাগ চাই। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালকের পদত্যাগও দাবি করেন তারা। হামলার বিচার দাবি করে ক্যাম্পাস বন্ধ ও হল ছাড়ার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।










