কুমিল্লায় আদালতে যাওয়ার সময় মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আসামী ও তার সঙ্গীরা। নিহত ঐ বাদীর নাম মিজানুর রহমান (৩৫)। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর মধ্যমপাড়ার সৈয়দুজ্জামানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মামলায় রায় শুনতে আদালতে যাচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। আদালতে যাওয়ার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর মধ্যমপাড়া কবরস্থানের সামনে আসলে তাকে ঐ মামলার আসামিরা কুপিয়ে জখম করে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত মিজানুর রহমানের বুকের মাঝে ও দুই পাশে ৪টি কোপের চিহ্ন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মিজানের মামাতো ভাই আবুল মিয়া জানান, তিনি, নিহত মিজান ও মিজানের চাচা মামলার কাগজপত্র সাথে নিয়ে কুমিল্লা আদালতে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে রওয়ানা হন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। তারা মধ্যমপাড়া কবরস্থানের সামনে আসা মাত্র কামাল হোসেন ওরফে আলমাস (৪৫), মৈয়দুর আলী (৫০) সহ আরো ৫/৬ জন আসামী এসে মিজানুর রহমানকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আবুল মিয়া বাধা দিতে গেলে তাকেও মেরে আহত করে। এসময় তাদের সাথে থাকা আদালতের ফাইলগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসামীরা।
মিজানকে গুরুতর জখম করে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা মিজানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মিজানুর রহমান জমি ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে গেছে।
কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী নরেন্দু বিকাশ দোলন জানান, নিহত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তার মামলার আসামীরাও একটি সাজানো প্রতারণা মামলা করেছিল। ঢাকা চট্টগ্রাম রেলপথের ডবল লাইনের জমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের মামলা। যা পুরোটাই সাজানো। এ মামলায় জামিনে বের হয়ে দ্বিতীয় হাজিররার তারিখ ছিল আজ।
নিহত মিজানের মামাতো ভাই আবুল মিয়া জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলায় রয়েছে।
কুমিল্লা কোতয়ালী থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো: নাজমুল হাসান বলেন: ‘নিহত মিজানের শরীরে চারটি জখম রয়েছে। বুকের বাম পাশে বড় ধরনের জখম রয়েছে। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন লিখে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।’








