আবু মহসীন খান বেশ বৈষয়িক মানুষ। তার সামাজিক বোধও তীক্ষ্ম। নিজের সমস্যা সবাই গুছিয়ে বলতে পারেন না, কিন্তু তিনি পারেন। মানে পারতেন। যারা নিজের কথা বলে হাল্কা হতে পারেন, তাদের কোনো কষ্ট থাকে না। কথা শোনার মানুষ খুব জরুরি। ফেসবুক লাইভে তিনি সচেতনভাবে বুঝলেন, তার কথা বহু মানুষ শুনছেন। তারপরও তিনি হাল্কা হতে পারলেন না। তার মানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে সত্যিকার অর্থে হাল্কা করতে পারে না। আবু মহসীন খান ফেসবুক লাইভে কথা বলতে বলতে আত্মহত্যা করলেন। এ নিয়ে নানা রকমের রিপোর্ট হলো। ফেসবুক নাকি কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার সাহায্যে আত্মহত্যা প্রবণতা বুঝে ফেলতে পারে। পাঁচবছর আগেই ফেসবুকিএই কারিগরী উৎকর্ষ অর্জন করেছে। তারপর পৃথিবীতে বহু মানুষ সরাসরি সম্প্রচারে এসে আত্মহত্যা করেছে।
বিষয়গুলো নিয়ে অনকেই গভীরভাবে ভাবছে। কুল কিনারা করে ওঠা কঠিন হচ্ছে। মানুষের মনের মতো জটিল রসায়নের ক্রিয়া বিক্রিয়া কোন উপায়ে কি আকস্মিক পাল্টে দেয়া যায়?
বইমেলায় সানোয়ার হোসাইন নামের এক তরুণ সামনে বড় এক কাগজ ধরে দাঁড়িয়ে। স্বাধীনতা সরোবরের এক ধারে। পেছনে তার স্বাধীনতা স্তম্ভ। আর স্তম্ভের সুউচ্চতায় বসে বইমেলার সবকিছু দেখছে বারোটি ভূবন চিল।
সানোয়ার যে কাগজটি ধরে দাঁড়িয়ে, তাতে লেখা-
‘আড্ডার বিনিময়ে বই।
আপনি কি বিষন্নতায় ভুগছেন?
আপনার ভেতরের কষ্ট আমাকে বলুন
আর আমার কাছ থেকে একটি বই নিন, বিনামূল্যে।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বই পড়ুন।
আর আত্মহত্যা নয়’
এই কথাগুলো ইংরেজিতে লেখা।
সানোয়ার একটি বেসরকারি মেডিকেলে ডাক্তারি পড়ছেন। এরই মধ্যে তিনি অনেককে বই দিয়েছেন। বই দেয়াটা বড় কথা নয়। অনেকের জীবনের গল্প শুনেছেন। মানুষের বিষন্নতা সম্পর্কে একটি ধারনা তার হিসেবের মধ্যে আসছে প্রতিদিন। কাজটি তিনি শিক্ষাগত উৎকর্ষের অংশ হিসেবে করছেন। এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন অনেক কিছু। এই সময়ে কারা সবচেয়ে বেশি হতাশ বা বিষন্নতায় ভুগছে, এ হিসাব তার কাছে রয়েছে। বললেন, এই সময়ে বয়ষ্করা সবচেয়ে বেশি বিষন্ন হয়ে পড়ছে। কারণ, তাদের কথার বলার মতো মানুষ নেই। তাদের কথা কেউ শুনতে চাইছে না। এই সময়ে কথা বলা মানুষ বেড়ে যাচ্ছে, শোনার মানুষের চেয়ে। সবাই কথা বলার জন্য প্রস্তুত হতে চাইছে। শোনার জন্য নয়। এই হিসেবে খুব খারাপ সময় চলছে এখন।
সানোয়ার হোসাইন আর তার বন্ধু সোহেল রানা বইমেলার ভীড়ের মধ্যে মিশে থাকছেন। কিন্তু তারা ঠিকই প্রতিদিনি উদ্দিষ্ট মানুষের পাচ্ছেন। শুধু বই নেয়ার ছলেও কেউ কেউ আসছেন। তাদেরকেও হিসেবে রাখছেন তারা। বলছেন, কেউ যদি ভুল করেও বই পড়ে ফেলে, সে অবশ্যই জীবনের আনন্দটা পেয়ে যাবে।







