নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য মূলত আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েল করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।
তারা বলছেন, নির্বাহী, বিচার ও সংসদ ধ্বংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ এখন আত্মরক্ষার জন্য সবকিছু করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। মূলত তাদের হাতে কোন প্রমাণ নেই। বিএনপির হাতেও কিছু নেই। থাকবে কেন? এধরনের কোন ঘটনা তো ঘটেনি।
সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের যে অভিযোগ উঠেছে তার বিরোধিতা করে বিএনপি নেতারা শুক্রবার পৃথক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্বদেশ জাগরণ পরিষদ আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা সুসংহত করতে চায়। নিজেরা দুর্নীতি করে সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অপরাধ ঢাকতে বিএনপি চেয়ারপারসনের পেছনে লেগেছে। তার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। এখন শুধু তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি।
আমির খসরু বলেন, ওবায়দুল কাদের বলছেন আমরা দুর্নীতি যে করিনি তার প্রমাণ দিতে হবে। কেমন হাস্যকর কথা! অথচ তারা যে অভিযোগ করেছে তার প্রমাণ দিতে হয়। আসলে এসব তারা করছে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।
“তাদের কাছে অনুরোধ, আবারও এই পথে যাবেন না। এই পথ বড় পিচ্ছিল। একবার সে পথে হেঁটেছেন। আবারও হাঁটবেন না। এটি করলে আওয়ামী লীগকে ১৯৭৫ সালের মতো আবারও উচ্চমূল্য দিতে হবে”।
জাতীয় প্রেসক্লাবে অপর এক আলোচনা সভায় বিএনপিরা স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগ যে মিথ্যাচারের ইতিহাস লিখছে তা টিকবে না। মানুষ জানে কোনটি সত্য। সত্য কখনো আড়াল করা যায় না।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন করতে হলে বিএনপির সাথে সমঝোতায় আসতেই হবে। যে সংকট তৈরি হয়েছে তা সমাধান আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া এই সংকট সমাধান হবে না।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিথ্যা বলা শেখার জন্য আওয়ামী লীগ একটি বড় প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান, তিনি বলছেন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে সম্পদ পাচার করেছে। গায়ের জোরে মিথ্যাচার করছেন। প্রমাণ নেই। প্রমাণ দিন। তা না হলে মামলা হবে।
রিজভী হুমকির সঙ্গে বলেন, ‘শেখ হাসিনা, আপনার সমস্ত কর্মকাণ্ডের তালিকা হচ্ছে। কোন কিছুই বাদ যাবে না। কোন টাকা কোথায় যাচ্ছে জনগণ সব জানে। এর হিসাব দিতে হবে।








