জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ছাড়া প্রথম দিনের বক্তব্যের পুরোটাই ছিলো রাজনৈতিক। আগামী ৮ ডিসেম্বর আবার আদালতে হাজির হয়ে মামলার অভিযোগ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য দেয়ার ধার্য্য তারিখ ছিলো বৃহস্পতিবার। দুপুর সাড়ে ১২টায় বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে হাজির হন খালেদা জিয়া।
শুনানির শুরুতেই তার পক্ষের আইনজীবীরা মামলার সাক্ষীদের শপথ গ্রহণকে ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থন পেছানোর আবেদন করেন। তবে দুইপক্ষের শুনানির পর আদালত ওই আবেদন নাকচ করে খালেদা জিয়াকে সাক্ষীদের অভিযোগ পড়ে শোনান এবং তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলেন।
বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্যে বলেন, দেশে আজ কোন আইনের শাসন নেই, নেই নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সারা বাংলাদেশকেই বিশাল কারাগার বানানো হয়েছে। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এই মূহুর্তে কারাবন্দী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) দোষী না নির্দোষ জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি নির্দোষ দাবি করে মাননীয় আদালতে বক্তব্য দেয়া শুরু করেছেন। আজকে তিনি তার আংশিক বক্তব্য দিয়েছেন। আর বাকি আংশিক বক্তব্য আগামী সপ্তাহে শেষ করবেন বলে মাননীয় আদালতে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে তিনি সময় নিয়েছেন।
‘এই মামলাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে’ দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, উনারা বলছেন শপথ এভাবে হবে না। সুতরাং সব সাক্ষী নতুন করে নিতে হবে। এভাবে প্রত্যেকদিনই উনারা দরখাস্ত দেন। না পারলে উচ্চতর আদালতে যাবেন। এই কথা বলে সময় ক্ষেপণ করার জন্য আবার চেষ্টা করেন।
নিজেদের বক্তব্যের ব্যপারে তিনি বলেন, উনারা উনাদের প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যস্ত আছেন। আমরা এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিচ্ছি না। আমরা বলেছি ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান মোতাবেক, এভিডেন্স এ্যাক্টের বিধান মোতাবেক এবং শপথের প্রক্রিয়া মোতাবেক যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তা সঠিক।
বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেয়া শুরু করলেও সাক্ষীদের ত্রুটিপূর্ণ শপথ সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন আইনজীবীরা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেন, ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ থেকে কিছু রুল ফ্রেম করা হয়েছে। সেই রুলে বলা হয়েছে কিভাবে শপথ নিয়ে সাক্ষীগণ সাক্ষ্য প্রদান করবে। সেখানে বলা আছে ‘ইন দ্য নেম অব দ্য গড’ মানে আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিতে হবে। আমরা বলেছি এই রুল অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রদান করা হয় নাই, ওথ নেওয়া হয় নাই। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, কি হলো না সে সম্পর্কে আমরা পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে যেতে পারি, যাবো।
বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ জজ আদালতে হাজির হওয়ার দিনই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে নাশকতার ১০টি মামলার ধার্য্য তারিখ ছিলো। তবে ওই মামলাগুলোর শুনানি না হয়ে আগামী ৯ জানুয়ারী পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। ওইদিন বেগম খালেদা জিয়াকে হাজিরের নির্দেশ দেন বিচারক।
রিপোর্টটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন:







