গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর পাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বেশীর ভাগ পরিবারের পুরুষ সদস্য রয়েছেন আত্মগোপনে। সব ধরনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে তাদের।
৬ নভেম্বর জেলার গোবিন্দগঞ্জ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সাঁওতাল আদিবাসীদের সাথে সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারী ও পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই সংঘর্ষে সাঁওতালপল্লীর দুইজন নিহত হন। পুলিশসহ আহত হন ১৫ জন। ওই দিন সন্ধ্যায় র্যাব, পুলিশের সহায়তায় সাঁওতাল অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে প্রশাসন।
ঘটনার পর রাতে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো তিন থেকে চারশ’ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু সাঁওতাল মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
সাঁওতাল অাদিবাসীরা জানান, হামলার পর থেকে কোনো খাবার কিনতে পারেনি তারা। এমনকি এলাকার বাইরে যেতেও পারেনি। নিরাপত্তাহীনতায় পুরাই গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে সাঁওতাল পরিবারগুলো।
পুলিশের উপস্থিতেই তাদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সাঁওতালদের। এরই মধ্যে কিছু গবাদি পশুও হারিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, এধরনের কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবো। আদিবাসীরা তাদের বাড়িঘরে থাকবে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করবে। এব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি আমরা।








