রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলের মহাব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন ৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার ভ্যাটের বিপরীতে মাত্র দশ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর কার্যালয়ে রেইনট্রির মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন।
মইনুল খান বলেন: রেইনট্রি হোটেলটি ৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ১৪ মে পর্যন্ত অতিথিদের কাছ থেকে ভ্যাটের নামে ৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা বিপরীতে সরকারি তহবিলে জমা দিয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। অথচ এটাকে তারা নিজেদের লাভ বা প্রফিট হিসেবে দেখিয়েছে। শুল্ক অধিদফতরের হিসেবে এই সময়ে তারা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকার। তাই এটা অর্থ আত্মসাতের পর্যায়ে পড়ে।
বাংলাদেশে সাধারণত হোটেল মালিকরা অল্প টাকা জমা দিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দেয়, ঠিক সেটাই করেছে রেইনট্রি। এমনটা হয়ে থাকলে শুধু রেইনট্রি কেন ভ্যাট কর্মকর্তারা যারা এই ভ্যাট ফাঁকিতে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মইনুল খান বলেন: ভ্যাট একটি পরোক্ষ আইন। যার রেস্টুরেন্ট সে ভ্যাট আদায় করবে পরে তা সরকারকে জমা দিবে।আদায়কারী যদি সঠিক ভ্যাট সরকারকে না দেয় তবে সে সেটার দায়িত্ব নিবে। আর ভ্যাটের যে কর্মকর্তা এখানে গাফিলতি করেছে তার ব্যাপারটা অবশ্যয় ভ্যাট কর্তৃপক্ষ দেখবে। তবে আমরা যেদিন রেইনট্রিতে যাই এবং এসব অবৈধ কাগজ উদ্ধার করি সেদিন ভ্যাটের কর্মকর্তারাও ছিল। তারাও এ অভিযানের অংশীদার। তারপরও যদি কোনো কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি থাকে সেটাও দেখবে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।
শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক জানান জিজ্ঞাসাবাদে রেইনট্রি হোটেলের মালিক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মইনুল খান বলেন: জিজ্ঞাসাবাদে রেইনট্রির মালিক দাবি করেছে, এসব মদ এপ্রিলে চাইনিজ কিছু অতিথিরা এনেছিল। তবে তারা চলে যাওয়ার সময় এগুলো রেখে যায়। এরপর তা হোটেলটির ১০১ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই এগুলো উদ্ধার করা হয়। কিন্তু, তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে জানায়নি। ফলে এটাও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি আরো বলেন: হোটেলের ১০১ নং কক্ষ থেকে যে দশ বোতল মদ উদ্ধার হয়েছে, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন তারা। সেগুলোকে তারা জুসের বোতল বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। বোতলের স্যাম্পল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পাঠানোর পর তারা পরীক্ষা করে বলেছে সেগুলো বিদেশি মদ ছিল। এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ ১৩.৫%। তবে তারা জুসের অবস্থান থেকে সরে এসে স্বীকার করেছেন সেগুলো মদই ছিল। কিন্তু তারা এর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
মইনুল খান বলেন, মদ সংরক্ষণ অথবা বিপণন করার জন্য ওই হোটেলে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, রেইনট্রিতে মদের ব্যবসা অতীতেও হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে মালিকপক্ষ দায়ী নয় জানিয়ে হোটেলটির জিএম ফাঙ্ক ফরর্গোট এবং এজিএম ফুড এন্ড বেভারেজ এমদাদুল আমীন বলতে পারবেন বলে জানান রেইন ট্রির মালিক। শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক জানান, তাদেরকেও তলব করা হয়েছে, দুই পক্ষের বক্তব্য নিয়ে জানা যাবে আসলে কে জড়িত।
রেইন ট্রির মালিক শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান।
ছবি: রণ মাহমুদ










