স্পোর্টস

‘বাধ্য হয়ে’ গরমে লিগ খেলছেন ক্রিকেটাররা

‘বাধ্য হয়ে’ গরমে লিগ খেলছেন ক্রিকেটাররা

মাথার উপরে আগুনে রোদ। বাতাসে তার ঝাঁজ। শরীর ঘেমে একাকার। তবু কেউ বল করছেন। কেউ ব্যাট করে যাচ্ছেন। চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। কেউ সরাসরি স্বীকার না করলেও, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে টাকার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের।

দেশের ক্রিকেটারদের বড় একটা অংশের আয়ের প্রধান উৎস এই লিগ। লিগ শেষ হলেই পারিশ্রমিকের পুরোটা পান। দেরি হলে টাকাও দেরিতে আসে। তাই এমন গরমেও ইনজুরি ঝুঁকি মাথায় নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হচ্ছে লিটন, এনামুলদের।

কিন্তু সেটি আর সবাই পারছেন কই। গরমের কাছে হার মানতেই হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে স্বেচ্ছা অবসরে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা।

কয়েকদিন আগে বিকেএসপিতে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে মোহামেডানের তামিম ইকবাল ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মুমিনুল হক যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলবেন। কিন্তু গরমের কারণে পারেননি। তামিম ১৫৭, মুমিনুল থামেন ১৫২ রানে। অথচ ইনিংস শেষ হতে বাকি ছিল পর্যাপ্ত ওভার। ডাবল সেঞ্চুরি করা সময়ের ব্যাপার হলেও গরমে আর উইকেটে থাকতে পারেননি। এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে নিয়মিত।

এই গরমে আর যাই হোক ক্রিকেট হয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘প্রাণ’ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। অথচ এই আসরটিই কিনা মাঠে গড়ায় এপ্রিলে। শেষ হয় জুনে। এটা যে মোটেও ভালো সময় না সেটি মানলেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি নিজে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর কোচ। রোদের তেজ ঠিকই টের পাচ্ছেন মাঠে থেকে, ‘এটা আদর্শ সময় নয়। সবসময় ক্রিকেট ক্যালেন্ডার করার সময় বলি প্রিমিয়ার লিগ যেন সঠিক সময়ে হয়। এটা আমি চাই। আমরা যখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম… তখন সোয়েটার পরেও খেলেছি। এখন তো ক্লাবের পয়সা বেঁচে যাচ্ছে। সোয়েটার বানাতে হয় না। অবশ্যই চাই ঢাকা লিগ ঠাণ্ডার সময়ে হোক। যখন ক্যালেন্ডার নিয়ে মিটিংয়ে বসব তখন জোরালোভাবেই বলব।’

‘আপনাদের মাধ্যমে সুপারিশ করে রাখলাম যেন এমন গরমে এই লিগটা না হয়।’

কেন এপ্রিল-জুনে প্রিমিয়ার লিগ হয় সেটির পেছনে কিছু বাস্তবতার কথাও মনে করিয়ে দিলেন খালেদ মাহমুদ, ‘ব্যস্ত শিডিউল থাকে ছেলেদের। টুর্নামেন্ট বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রিমিয়ার লিগটা পিছিয়ে যাচ্ছে।’

এমন গরমে ম্যাচ খেলার সবচেয়ে বড় হুমকি পানিশূন্যতা। যার প্রভাবে হতে পারে বড় ধরণের ইনজুরি। ৩৩ বছর ধরে কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সারোয়ার ইমরান চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এখন পানিশূন্যতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ শরীর থেকে প্রচুর পানি ঝরবে। রিকভার করার জন্য খেলার পরে পানি খেলে হবে না। খেলা চলাকালীন, খেলার আগে, খেলা শেষ হওয়ার পর, রাতে-দিনে সবসময় পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে এবং স্যালাইন খেতে হবে। এমনভাবে পানি খেতে হবে যেন পেট না ভরে। একটু পর পর হাফগ্লাস করে খেতে হবে। তাহলে ক্ষতি হবে না।

‘এখান থেকে বড় ইনজুরি হতে পারে। বিশেষ করে পেস বোলার ও উইকেটরক্ষকদের বেশি যত্ন নেওয়া উচিত। যারা সেঞ্চুরি করছেন কিংবা অনেক সিঙ্গেলস খেলছেন তাদের সতর্ক থাকা উচিত।’

বিষয়:ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ
প্রতিবেদক

সাজ্জাদ খান

বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, মানুষের গল্প এবং যাচাইকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই অনলাইন।

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…