নিজেকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘ আটমাস ঘর বন্দি ছিলেন ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সেনসেশন গ্ল্যামারগার্ল নুসরাত ফারিয়া। আজকে তার সেই সফলতা সারাদেশের সিনেমা হলে দর্শক দেখতে পাবে। বড় পর্দায় অভিষেক ঘটার পর ফারিয়ার বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘আশিকি’ আজ মুক্তি পেয়েছে।
মুক্তির আগ থেকেই আশিকি’র গান ও ট্রেইলর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়লন সৃষ্টি করেছিলেন ফারিয়া। সফলতা শুধু এই নয় বাংলাদেশের ছবি করতে না করতেই ফারিয়া বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা এরইমধ্যে পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। ছবি মুক্তি হওয়ার পর ফারিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন প্রথম সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর তার অনুভূতি আর অজানা কিছু কথা
চ্যানেল আই অনলাইন: ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ‘আশিকি’ মুক্তি পাওয়ার পর কেমন লাগছে?
ফারিয়া: বড় পর্দায় অভিষেক হওয়ার পর এটাই আমার প্রথম সিনেমা। মনে হচ্ছে পরীক্ষা দিয়েছি আজ তার রেজাল্ট পাবো। জানি না দর্শক সিনেমা দেখে পচা ডিম মারবে নাকি হাতে তালি দিবে। মনের মধ্যে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কোনো জানি বিশ্বাস হচ্ছে দর্শক ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে যেভাবে আমাকে গ্রহণ করেছিলো ঠিক একইভাবে সিনেমাটি দেখার পর দর্শক গ্রহণ করবে। আসলে সবকিছু মিলিয়ে অনেক পজেটিভ কিন্তু অনেক নাভার্স।
চ্যানেল আই অনলাইন: দর্শক নুসরাত ফারিয়াকে কিভাবে গ্রহণ করবে?
ফারিয়া: দর্শক কিভাবে নেবে সেটাই আসলে আমার মূল চ্যালেঞ্জ। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি দর্শকদের মতো করে নিজেকে উপস্থাপন করতে। সত্যি কথা বলতে কোনো কিছু পাওয়ার আগেই যদি সে পিছিয়ে যায়; তা একদম ঠিক নয়। তাই আমি দর্শকদের সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করছি বাকিটা দর্শকদের উপর নির্ভর করে তারা আমাকে কিভাবে গ্রহণ করবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করতে কেমন লেগেছে?
ফারিয়া: মৌসুমী আপুর সঙ্গে কাজ করতে অসাধারণ লেগেছে। যখন অভিনয় করছিলাম তখন মৌসুমী আপু ছোট বোনের মতো বলে দিতো শর্টটা এভাবে না দিয়ে; এভাবে দিতে হবে। মানে সবসময়ই তিনি আমাকে অভিনয় শিক্ষার মধ্যে রেখেছেন।
চ্যানেল আই অনলাইন: কলকাতায় ‘আশিকি’ মুক্তির পাওয়ার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো?
ফারিয়া: কলকাতার দর্শকদের প্রতিক্রিয়া চমৎকার ছিলো। ‘আশিকি’ দেখার পর তারা বিশ্বাস করেনি এটি বাংলাদেশের প্রথম কোনো নায়িকার সিনেমা। তখন আমি দর্শকদের বিশ্বাস করিয়েছি আমি বাংলাদেশী এবং এটি আমার প্রথম সিনেমা।
চ্যানেল আই অনলাইন: ‘আশিকি’ সিনেমা দেখার পর প্রসেনজিৎ কি বলেছিলেন?
ফারিয়া: ‘আশিকি’ সিনেমাটি দেখতে দেব, হিরন অঙ্কুশসহ কলকাতার অনেক হিরো গিয়েছিলো। কিন্তু বুম্বা দা’র কাছ থেকে অভিনয়ের প্রশংসা পাওয়ার পর নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারেনি তিনি আমাকে বললে তুমি খুব ভালো অভিনয় করেছো। তার মতো এমন গুণী নায়কের কাছ থেকে এটা শোনার পর মনে হয়েছে ছবিতে কিছু ভালো কাজ করেছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: ‘আশিকি’ সিনেমার জার্নির পর নতুন কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন?
ফারিয়া: অলরেডি নতুন সিনেমার অনেক কথা চলছে। তবে আমার হাতে এখন বলিউড প্রজেক্ট রয়েছে সেহেতু ওখানে আমার বড় সময় দিতে হবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে বলিউডের কাজ শেষ করে বাংলাদেশের নতুন প্রজেক্টের কাজে হাত দিবো।
চ্যানেল আই অনলাইন: বলিউড সিনেমায় কাজ করবেন এই কথাটি শোনার পর কেমন লেগেছে?
ফারিয়া: বলিউড ‘গাওয়াহ্: দ্য উইটনেস সিনেমার জন্য আমাকে যখন পরিচালক বিষ্ণু দা ফোন দিলো তখন আমার মনে হলো আমার নাম বলছে না। কেনো জানি নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারেনি। অবশেষে বিশ্বাস হয়েছে যে আমিই বলিউডে ফাইনালি অভিনয় করতে যাচ্ছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: বলিউড সিনেমা তাও আবার নায়ক ইমরান হাশমি কেমন লাগছে ব্যাপারটি?
ফারিয়া: একে তো প্রথম বলিউড সিনেমা অন্যদিকে নায়ক ইমরান হামশি। আসলে বোনাসের ওপর যেনো ডাবল বোনাস পেলাম। ইমরান হামশি খুব চমৎকার নায়ক। এছাড়া হামশির সঙ্গে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিক, কলকাতার পায়েল সরকার আছে। আমি ছাড়া বাকি তিনজন দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রী। নিজেকে তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হলে অভিনয়ে খুব বেশি দক্ষ হতে হবে। আর এটাই এখন চেষ্টা করছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: তাহলে কি নতুন সিনেমার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন?
ফারিয়া: হ্যাঁ ‘আশিকি’ ছবির মুক্তির পরপরই নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন গ্রুমিং করবো। স্ক্রিং প্লে কি হবে, চুল থেকে শুরু করে মেকআপ কেমন হবে, গল্পের চরিত্রে আমার কতটুকু দক্ষ হতে হবে তা সবকিছুই মিলেয়ে আমি গ্রুমিংটা করবো।
চ্যানেল আই অনলাইন: ‘আশিকি’ সিনেমার ক্ষেত্রেও কি এই ধরনের গ্রুমিং করেছিলেন?
ফারিয়া: ‘আশিকি’ সিনেমায় জন্য দীর্ঘ আটমাস নিজেকে ঘর বন্দি করে রেখেছিলাম। এই আটমাস ঘর ছাড়া আমি আর কিছুই দেখেনি।
চ্যানেল আই অনলাইন: দীর্ঘ আটমাস ঘর বন্দি ছিলেন কিন্তু কেনো?
ফারিয়া: দর্শকদের সামনে এক্সক্লুসিভ ভাবে ফিরে আসার জন্য এটি করেছিলাম। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ছোট পর্দার কাজসহ মডেলিং সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। নিজেকে শুধু নায়িকা হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য।
চ্যানেল আই অনলাইন: ক্যারিয়ারের প্রথম হিরো অঙ্কুশ কেমন ছিলো?
ফারিয়া: আমার ক্যারিয়ারের প্রথম হিরো অঙ্কুশ। ওর সঙ্গে কাজ করে কখনো মনে হয়নি ও কলকাতার নায়ক। সাধারণ মানুষের মতো অঙ্কুশ আমার যত্ন নিতো। ওর মধ্যে কোনো সুপারেস্টারের ব্যাপার নেই। সিনেমা করতে যেয়ে অঙ্কুশ আমার খুব ভালো বন্ধু হয়েছে যে এখন কোনো ছবি করছি না তারপরও খুব ভালো সম্পর্ক।
চ্যানেল আই অনলাইন: এবার আসি ঈদ প্রসঙ্গে। কোথায় করছেন ঈদ?
ফারিয়া: আমার প্রথম সিনেমা রিলিজ পাবে আর ঢাকাতে থাকবো না তাই কি হয়। অবশ্যই ঢাকাতে ঈদ পালন করবো।
চ্যানেল আই অনলাইন: পরিবারের সঙ্গে নিশ্চয় দেখতে যাবেন?
ফারিয়া: আসলে পরিবারের সদস্যরা মাংস কাটাকটি নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। সেজন্য জাজ পরিবারের সঙ্গে ঢাকার যেকোনো একটি সিনেমা হলে ‘আশিকি’ দেখতে যাবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: ঈদ শপিং হয়েছিলো?
ফারিয়া: শপিং আর ঘুম এই দুইটা জিনিস থেকে আমি একদম আলদা হয়ে গেছি। আর সবচেয়ে বেশি মিস করি বাসায় থাকা।
চ্যানেল আই অনলাইন: ছোটবেলায় নায়িকা হওয়ার কোনো স্বপ্ন ছিলো?
ফারিয়া: না, ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিলো করপোরের্ট ওমেন হবো। আমি এখনো সেই স্বপ্নটি দেখি। কিন্তু নায়িকা হবো সেটি ভাবিনি। আসলে জীবনে তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে সেটিতো আগে থেকে জানা যায় না।
চ্যানেল আই অনলাইন: নুসরাত ফারিয়ার কি লাইফ পার্টনার আছে?
ফারিয়া: সত্যি বলতে প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে লাইফপার্টনার, ভালোবাসার মানুষ, বয় ফ্রেন্ড যাই বলি না কেনো এটাই আমার লাইফের মূল এনার্জি। যেই মানুষটা আমার জীবনে আছে সে সবসময় আমাকে পজেটিভ সার্পোট দিয়ে যায়। তুমি কাজ করো। প্রেম করছি বলে যে কাজ করতে পারবো না, তা নয়। আমার মনে হয় তার জন্যেই আমি এতো সুন্দর কাজ করতে পারছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য? ঈদ মোবারক আপনাকে।
ফারিয়া: আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ। আমার সমস্ত দর্শকদের জানাই ঈদ মোবারক।






