দু’দিন আগে শুরু হলেও বার্সোলোনার লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হচ্ছে আজ। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বার্সার প্রতিপক্ষ গত সপ্তাহে শেষ হওয়া দুই লেগের স্প্যানিশ সুপার কাপে ফাইনালে বার্সেলোনাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া অ্যাথলেটিকো বিলবাও।
বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় আবারো মুখোমুখি হবে দু’দল।
গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ী বার্সেলোনা দুই সপ্তাহ আগে সেভিয়াকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জেতে। এতে ক্লাবের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক বছরে ছয়টি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। সে লক্ষ্যে আরেক ধাপ এগোতে তিন দিন বাদে সান মামেসে পাড়ি জমান লিওনেল মেসি-লুইস সুয়ারেসরা।
স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম পর্বের সেই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এনরিকে নিয়মিত একাদশের পাঁচ জনকে বাইরে রাখায় মাঠের লড়াইয়ে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্রর। প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক মনোভাবের বিপরীতে মেসি-সুয়ারেসদের খুঁজেই পাওয়া গেল না। শেষ পর্যন্ত আরিতস আদুরিসের অসাধারণ এক হ্যাটট্রিকে গতবারের ইউরোপ সেরাদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিলবাও।
অত বড় হারের পরও ফিরতি পর্বে দারুণ কিছু করে শিরোপা জয়ের আশায় ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু কঠিন বাস্তবতায় নাটকীয় কিছু তো দূরের কথা, জয়ই পায়নি তারা। ঘরের মাঠে ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হয় ম্যাচটি।
তাই লিগে আত্মবিশ্বাসী শুরুর পাশাপাশি গেল সপ্তাহের চার গোলে হারের প্রতিশোধের লক্ষ্যও বড় হয়ে উঠেছে বার্সা শিবিরে। তবে সেটা হয়তো সহজ হবে না। ঘরের মাঠে অদম্য রূপের পর ক্যাম্প ন্যুতেও বিলবাও যেভাবে লড়ছে, তাতে মেসিদের জন্য কাজটা সহজ নাও হতে পারে।
তারপরও দুই পর্বের ওই একটা শিরোপা লড়াইয়ের হার দিয়ে বার্সেলোনার সামর্থ্যকে ছোট করে দেখার কোনো উপায় নেই। কারণ যে দলের আক্রমণভাগে টানা চারবারের বর্ষসেরা মেসি ও প্রতিপক্ষের রক্ষণকে মুহূর্তে ভেঙে দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন সুয়ারেস থাকে, তারা যেকোনো মুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আর নেইমার সুস্থ হয়ে ফিরলে এই ত্রয়ীকে আটকানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হবে।
তারকা নির্ভর আক্রমণভাগ বার্সেলোনাকে ফেরার আত্মবিশ্বাস দিলেও একটা দুশ্চিন্তা অবশ্য থেকেই যাচ্ছে। গত তিন ম্যাচে ৯ গোল হজম করায় দলটির রক্ষণের কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জর্দি আলবা চোট কাটিয়ে ফেরায় সে সমস্যা অনেকটাই হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারবে লা লিগার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা ক্লাবটি।
আজ মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদও, খুব সম্ভবত ‘বিবিসি’র একজন করিম বেনজিমাকে ছাড়াই। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন হয়েছে পেপের সঙ্গে, তারও মাঠে নামার সম্ভাবনা কম। চোটের কারণে দুজনই প্রাক-মৌসুমে বেশির ভাগ সময় ছিলেন মাঠের বাইরে।
তাতে অবশ্য সমর্থকদের চাওয়াটা বদলাচ্ছে না, বেনিতেজ ভালো করেই জানেন, ‘আমাদের সদস্যরা, সমর্থকরা চায় আমরা যেন লিগটা জিতি, সঙ্গে যেন চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং কাপটাও জিতি। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের জন্য এটাই স্বাভাবিক। কঠিন পরিশ্রম ও আমাদের দলে থাকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সমন্বয়ে আমরা সেটা করব।’
সেই প্রত্যাশা পূরণের প্রথম পদক্ষেপটা আজ, বেনিতেজ বলেছেন, ‘লিগ জিততে হলে স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে হবে।’







