বৃক্ষমানব আবুলের চিকিৎসার পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে সোমবার বৈঠকে বসছে মেডিক্যাল বোর্ড। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইন্সটিটিউটে দুপুরে বৈঠকটি হবার কথা। প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডাঃ সামন্ত লাল সেন বলেছেন, আগামী শনিবার নাগাদ তার অস্ত্রোপচার শুরু হতে পারে। আবুলের চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অধ্যাপক ডাঃ সামন্ত লাল সেন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আবুলের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। সামন্ত লাল সেন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আবুলের চিকিৎসার বিষয়টিকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। আশা করছেন তারা সফল হবেন।
এরমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে আবুলের অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সামন্ত লাল সেন। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আবুলের চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। খুলনার পাইকগাছার যুবক বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদারকে তিন সপ্তাহ আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্যে আনা হলে তাকে নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দশ বছর আগে হাতেপায়ে কিছু আঁচিলের সমস্যা বেড়ে তার হাতপা এখন গাছের শিকড়ের রূপ নিয়েছে! কিন্তু দশ বছর ধরে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় আবুল ছিলেন এক রকম মিডিয়ার প্রাদ প্রদীপের অন্তরালে। শারীরিক এই সমস্যার আগে ভ্যান চালাতেন আবুল। শেষ পর্যন্ত কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি এক রকম ভিক্ষুকে পরিণত হন। গত পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে খুলনার সাংবাদিক সুনীল দাস ওই এলাকায় গেলে এলাকার লোকজনের অনুরোধে তিনি আবুলকে নিয়ে একটি রিপোর্ট করেন।
কিন্তু সেই রিপোর্টটিও বেশি মানুষের চোখে পড়েনি। এরপর সুনীল দাস আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে একজন সমাজ হিতৈষী চিকিৎসক ডাঃ শরফুদ্দিন আহমদের উদ্যোগে প্রথমে খুলনার চিকিৎসকদের দেখানো হয় আবুলকে। এরপর তাদের সুপারিশে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইন্সটিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
ঢাকা আসার মতো সামর্থ্যও ছিলো না আবুলের। তার জন্যে সে ব্যবস্থাও করতে হয়েছে। আবুলের মা-বোনসহ তাকে ঢাকা এনে প্রথম তোলা হয় একটি হোটেলে। পরের দিন তাকে ঢামেকের প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইন্সটিটিউটে নিয়ে গেলে ডাঃ সামন্ত লাল সেনের কারণে সেখানে তার উষ্ণ অভ্যর্থনা হয়।
দেশিবিদেশি মিডিয়ায় রিপোর্টে তার নাম হয় বৃক্ষ মানব। গুগলে এখন আবুল লিখে সার্চ দিলে সবচেয়ে বেশি ছবি-রিপোর্ট পাওয়া যাবে সব তার। এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় এমন একজন রোগী পাওয়া গিয়েছিল। পৃথিবীর সব খ্যাতনামা মিডিয়ায় আবুলকে নিয়ে রিপোর্ট হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসে।
ডব্লিউএইচও’র অনুরোধে আবুলের রক্ত-লালা এসব তাদের আমেরিকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এরমাঝে হাসপাতালে আবুলকে দেখতে গিয়ে বলেছেন, সরকার তার চিকিৎসার জন্য সবকিছু করবে।
ঢামেকে আবুলের পরিবারকে একটি কেবিন দেয়া হয়েছে। আবুলের মা-বাবা-স্ত্রী-কন্যা সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের খাওয়া-দাওয়াও হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে। ডাঃ সামন্ত লাল সেন আমাদের বলেছেন, আবুলের চিকিৎসা নিয়ে হু’র সঙ্গে তাদের নিয়মিত ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে।
পৃথিবীর খ্যাতনামা অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইতোমধ্যে এই চিকিৎসার সঙ্গে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছেন। সামন্ত লাল সেনরা আপাতত প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আবুলের ডানহাতের দুটো আঙ্গুল বের করে আনার কথা ভাবছেন। যাতে আবুল নিজের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ধরতে পারেন।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মেডিক্যাল বোর্ড। আবুলের চিকিৎসা দেশের চিকিৎসা সামর্থ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসাবে চিহ্নিত করবে বলে অনেকের ধারণা।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






