বনশ্রীতে দুই শিশু হত্যার দু’দিনেও হত্যাকারীকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মামলা দায়ের না হওয়ায় তদন্ত কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।
বুধবার জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরে মামলা করার কথা ছিলো ওই দুই শিশুর বাবার।
কিন্তু তার আগেই তাদের বাবা-মাসহ খালাকে র্যাব আটক করে নিয়ে গেছে বলে দাবি
করেছেন স্বজনরা।
বুধবার দুপুরে ভিসেরা ও খাবারের বাকি অংশ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মামলা না হওয়ায় এই ঘটনার কোনো আলামত পরীক্ষা করতে পারছে না পুলিশ। কেননা এ জন্য আদালতেরও অনুমতি লাগে।
তিনি জানান, বিছানার চাদর, বালিশসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তার জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু মামলা বা জিডি না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারছে না পুলিশ।
একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই শিশুর একজনকে আগের দিন স্কুলের দারোয়ান হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যেতে চাইলে তার হাতে ব্যথা থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে ওই শিশু আগের দিন কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলো।
শিশুদের বাড়িওয়ালা এবং তার ছেলেকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কিন্তু তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আর সন্দেহজনক যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়াও শুরু করতে পরেনি পুলিশ। অবশ্য আগে থেকেই পুলিশের ধারণা তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এমন আভাস ছিলো সুরতহাল প্রতিবেদনেও। সেখানে আঘাতের চিহ্নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিলো
গত সোমবার ওই দুই শিশুকে বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিলো যে বাইরে থেকে আনা খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মরদেহের ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকদের ধারণা ওই শিশুদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত নুসরাত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম ও আলভী হলি
ক্রিসেন্ট স্কুলে নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাবা মো. আমান উল্লাহ
ব্যবসায়ী ও মা জেসমিন আক্তার গৃহিণী।
মঙ্গলবার রাতে জামালপুরের পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর পরপরই শিশুদের নানা বাড়িতে তাদের বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। পরে সকালে তাদেরকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে র্যাব।
এর আগের দিন বিকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুদের বাসার দুই দারোয়ান, গৃহশিক্ষিকা ও এক স্বজনকে র্যাব-৩ এর ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
শিশুদের পরিবারের দাবি চায়নিজ রেস্তোরাঁ থেকে আগের দিন আনা খাবার দুপুরে গরম করে খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ার পর আর উঠেনি। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এরপরই ওই রেস্তোরাঁর মালিক, পাচক ও এক কর্মচারিকে আটক করে পুলিশ।






