এখন আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদকে যেমন দেখি, বহু যুগ আগে কিন্তু তেমনটা দেখতাম
না। দেখতাম একটু ভিন্নভাবে। কারণ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ এখন আর তার শুরুর
অক্ষে ঘোরে না, ঘোরে নতুন এক অক্ষে।
১৯৯০-এর দশকে নাসার লুনার প্রসপেক্টর মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা চাঁদের দুই মেরুর কাছে দু’টি হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ এলাকা খুঁজে পান। এলাকা দু’টির উপস্থিতি নির্দেশ করে, সেখানে খুব সম্ভবত পানির তৈরি বরফ আছে।
দুই ভিন্ন মেরুতে থাকা বরফাবৃত এলাকা দু’টি একে অপরের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। শুধু তাই নয়। এলাকা দু’টির মধ্য দিয়ে রেখা টানলে তা চাঁদের কেন্দ্র দিয়ে চলে যায়!
বিজ্ঞানীদের মতে এর অর্থ একটাই – ওই রেখাটি এক সময় চাঁদের অক্ষ ছিলো, চাঁদ ওই অক্ষের ওপর নিচের চারদিকে ঘুরতো। আর বরফাবৃত অঞ্চল দু’টি ছিলো আমাদের চাঁদের মূল দুই মেরু।
গবেষণাপত্রটি নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন এই গবেষণা অনুসারে, কয়েক বিলিয়ন বছর আগে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে প্রোসেলারাম নামক অঞ্চলে আগ্নেয়গিরিতে বড় ধরণের বিস্ফোরণের পর চাঁদের অক্ষরেখা ধীরে ধীরে এর আসল জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ ডিগ্রি সরে গেছে, পাল্টে গেছে দুই মেরুর অবস্থান। একে বলা হয় ‘মেরু বিচ্যুতি’।
অ্যারিজোনার প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষক দলে ম্যাট সিগলার জানান, চাঁদের যে অন্ধকার অংশগুলো পৃথিবী দেখে দৃশ্যমান, তার অধিকাংশেরই অবস্থান প্রোসেলারামে। বহু বিলিয়ন বছর আগে, চাঁদের ইতিহাসের প্রথম দিকে এই এলাকাটিই ভূ-তাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলো।
প্রোসেলারামে অতিরিক্ত আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভূ-তাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের ফলে চাঁদের অন্যান্য অংশের তুলনায় এই অংশটি বেশি উষ্ণ এবং হালকা হয়ে যায়।
ঘনত্বের এই পার্থক্যের ফলে সৃষ্ট দোলন ও কম্পনের কারণেই চাঁদ সময়ের সাথে সাথে তার আসল অক্ষ থেকে সরে গেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।







