চার বছর পর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াবেন টাইগার মিলন। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে তার পাশে থাকছে চ্যানেল আইয়ের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিন।
লাল-সবুজের পতাকা হাতে ডোরাকাটা বাঘ সেজে স্টেডিয়ামে সরব থাকতেন টাইগার মিলন। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে আইসিসি ইভেন্টেও দেখা যেত তার হুংকার। মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে বেড়াত সেই ছবি। টাইগার ক্রিকেটের ‘সুপারফ্যান’ হিসেবে পরিচিত ফাহিমুল হক মিলন এশিয়া কাপ দিয়ে আবারও ফিরছেন গ্যালারিতে।
সবশেষ ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের পর আর বিদেশ যাননি। দেশের মাটিতেও সরব ছিলেন না। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে খেই হারিয়ে মিরপুরের ভেন্যুতেও অনিয়মিত হয়ে পড়েন মিলন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এশিয়া কাপ দিয়ে নতুনভাবে শুরু করে সারাজীবন মাঠের ক্রিকেটে সরব থাকার শপথ তার কণ্ঠে।
মাঠে সবাইকে অনুপ্রাণিত করা মিলনের জীবনে গতবছর নেমে এসেছিল অন্ধকার। অল্পের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়নি। এখন হাঁটতে হয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। পুরোপুরি সেরে উঠবেন কিনা সেটিও ‘নিশ্চিত নয়’, জানিয়ে আফসোস করছিলেন চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দায় এসে।
গতবছর বনশ্রী এলাকায় একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মিলনের দুটি পা গুরুতর জখম হয়। করাতে হয় অস্ত্রোপচার। কয়েকমাস কাটাতে হয় হাসপাতালের বিছানায়। অনেকেই এগিয়ে আসেন তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে।

নতুন উদ্যমে ফেরা নিয়ে মিলন চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘দেড়বছর আগে বাইক এক্সিডেন্ট করি। এখনও পুরোপুরি সুস্থ হইনি। তারপরও এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবো চ্যানেল আই ও আইস্ক্রিনের মাধ্যমে। নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে। ফরিদুর রেজা সাগর (ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুযোগটি করে দেয়ার জন্য।’
চ্যানেল আই টাইগার মিলনকে অতীতেও বেশ কয়েকবার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০১৯-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তার পাশে ছিল চ্যানেল আই।

মিলনের ক্রিকেটের প্রতি টান ছোটবেলা থেকেই। ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পেয়েছেন খেলার সঙ্গে থাকার বিকল্প পথ। গ্যালারিকে আঙ্গিনা বানিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে পেয়েছেন আইকনিক ফ্যানের স্বীকৃতি। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে মিলন জানালেন, শেষ নিঃশ্বাস অবধি এই পরিচিতি ধরে রাখতে থাকতে চান মাঠে।
‘আমি আগে ক্রিকেট খেলতাম। ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ খেলি। জন্ডিস হওয়ার পর ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে হয়। তারপর ভাবলাম কীভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকা যায়। তারপর ২০১১ বিশ্বকাপে টাইগার মাস্কট পরে বাংলাদেশের পতাকা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরি। সবসময় ভাবতাম এবং এখনও ভাবি লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরবো যতদিন আমি বেঁচে থাকব।’








