ইতালিয়ান নাগরিক টাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইএস’র কোনো যোগসূত্র নেই বলে আবারও দাবি করেছে পুলিশ। টাভেলা হত্যায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতারের পর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশে এক ‘বড়ভাই’র নির্দেশে ভাড়াটে খুনিরা টাভেলাকে হত্যা করে।
‘তবে সুনির্দিষ্টভাবে টাভেলা তাদের টার্গেট ছিলো না, তাদেরকে ভাড়া করা হয়েছিলো একজন বিদেশীকে হত্যা করার জন্য।’
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ খবর দিলেও শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছিলো পুলিশ এবং সরকার।
চারজনকে গ্রেফতার করার পরও একই কথা বলেছে পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই ইটালিয়ান নাগরিক টাভেলা সিজারকে হত্যা করা হয়, হত্যার পেছনে ছিলেন এক ‘বড়ভাই’, প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতেই আইএস নাটক সাজানো হয়।
সেসময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ই প্রথম এই খবর দেয়। আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে শুরু করে সব দিকে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছি। আইএস’র সব তথ্য ওপেন থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আইএস’র ওপেন সোর্সের কোনো সাইটে টাভেলা হত্যার বিষয়টির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই অশরীরী দাবি নয়, যারা স্বশরীরে ঘটনাস্থলে থেকে ঘটনা ঘটিয়েছে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তির বিশ্লেষণে তাদেরকে গ্রেফতার করেছি। এর পেছনে যারা মাস্টারমাইন্ড আছে তাদের গ্রেফতার করা গেলে আইএস’র তথাকথিত দাবির সঙ্গে কি সম্পর্ক সেটা বের করতে পারবো।’
রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তিন হত্যাকারীসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল।
গ্রেফতারদের মধ্যে ‘ভাগ্নে’ রাসেল, ‘চাকতি’ রাসেল এবং ‘শুটার’ রুবেল সরাসরি ‘কিলিং মিশনে’ অংশ নেয় বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও উদ্ধারের সময় এর মালিক শরীফ নামে আরো একজনকে আটক করা হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গুলি করে হত্যা করা হয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা টাভেলা সিজারকে।







