জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার পাকিস্তানের লাল শাহবাজ কালান্দারের মাজারে ভিড় জমিয়েছে ভক্তরা। জঙ্গি হামলার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় সেখানে ভক্তদের ভিড় শুরু হয়ে যায়। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডন এবং কাতার ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল আল-জাজিরা জানায়, সেখানে প্রায় দেড় শ ভক্তের আনাগোনা হয়। বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় এ পর্যন্ত ৮৮ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
এদিকে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর আইএসবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মাজারের রক্ষণাবেক্ষণকারীরা শ্বেতপাথরের মেঝে থেকে রক্তের দাগ পরিষ্কার করে ফেলেছেন। সেই সাথে সরানো হয়েছেছে ধ্বংসের অন্যান্য চিহ্ন। তাদের ধামালের (এক ধরনের নাচ) প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
আলী ওঠো নামের এক ভক্ত বলেন, ‘এটা লাল শাহবাজ কালান্দার। কোনো সন্ত্রাসী, কোনো রকম সন্ত্রাসী হামলা আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। ধামাল চলবে এবং চলতেই হবে। ’
সিন্ধু প্রদেশের শেহওয়ান শরিফের লাল শাহবাজ কালান্দারের মাজারে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে জঙ্গিদের ‘অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া।
সেনাবাহিনী জানায়, তারা আফগান কর্তৃপক্ষকে ৭৬ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা দিয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম সামরিক জোট ন্যাটোর আফগানিস্তানে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জন নিকোলসনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। 
ফোনে পাক সেনাপ্রধান ন্যাটোর কর্মকর্তাকে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও তাদের ব্যাপারে এমন নিষ্ক্রিয় থাকার মাধ্যমে আমরা বর্তমান নীতির পরীক্ষা দিচ্ছি, যে নীতির কারণে আমরা সীমান্ত পেরোচ্ছি না। ’
২০১৪ সালে পেশোয়ারে সেনা পরিচালিত স্কুলে জঙ্গি হামলায় ১৫৪ জন নিহতের ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবারের হামলাটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।









