লিডসের মতো ম্যানচেস্টারেও কি পঞ্চমদিন সাক্ষী থাকবে কোনো মহাকাব্যের? এবার বেন স্টোকস হয়ে উঠতে পারবেন কেউ? এরকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের শেষদিন ঘিরে।
তবে জস বাটলার চেষ্টা করেও এদিন স্টোকস হয়ে উঠতে পারলেন না। ইংল্যান্ডও টেস্ট বাঁচাতে পারল না। সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ইংলিশদের ১৮৫ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকল অজিরা। সঙ্গে অ্যাশেজ নিজেদের কাছেই রাখল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ টেস্ট হারলেও যে সিরিজ হারছে না তারা। সে হিসেবে অ্যাশেজ বাক্স থাকবে গত অ্যাশেজে জেতা অজিদেরই হাতে।
ছাইয়ের কৌটা যে অস্ট্রেলিয়ার কাছেই থাকতে যাচ্ছে তা চতুর্থ দিনের শেষে রিপোর্টকার্ডই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ৩৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ২ উইকেটে ১৮।
সেখান থেকে শুরু করেন জো ডেনলি ও জেসন রয়। জুটিতে ৪৮ রান তুলে সুরঙ্গে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করে তারা। কিন্তু প্যাট কামিন্সের এক ছোবলে সেটা বেশি লম্বা হতে পারেনি। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হন পুরো সিরিজে ভুগতে থাকা রয় (৩১)।
হাফসেঞ্চুরি তুলে চেষ্টা করছিলেন ডেনলিও। তবে ফিফটি পূরণের পর আর টিকতে পারেননি। স্পিনার নাথান লায়নের এক ঘূর্ণিপাকে পড়ে ক্যাচ দেন লাবুশেনের হাতে। ১২৩ বলে তার সংগ্রহ দলীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রান।
লিডসে একা হাতে ম্যাচ জিতিয়ে সিরিজ জীবিত রাখা বেন স্টোকস (১) এদিন ক্রিজে ঠিকমতো পরিচিত না হতেই ফিরে যান। ১৭টি বল খেললেও কামিন্সের ইনসুইংগারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন টিম পেইনকে।
এরপরই শুরু হয় জস বাটলার ও জনি বেয়ারস্টোর লড়াই। স্কোরবোর্ডে নজর না দিয়ে দুজন চোখ রাখছিলেন শুধুই বলের দিকে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। মিচেল স্টার্কের দ্রুতগতির বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন বেয়ারস্টো (২৫)।
অবশ্য বুকে আশা নিয়ে মাথায় বরফ ঢেলে ক্রিজে জমে যান বাটলার। ১১১ বল মোকাবেলা করে ঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু জস হ্যাজেলউডের ইনসুইংগার ছেড়ে দিতে যেয়ে বোল্ড হন তিনি (৩৪)।
বাটলার ফিরতেই লড়াই থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। দ্রুত ফেরেন জফরা আর্চার (১)। শেষদিকে ক্রেইগ ওভারটনের ১০৫ বলে ২১, আর জ্যাক লিচের ৫১ বলে ১২ রান অজিদের জয়ই কেবল বিলম্বিত করতে পেরেছে।
অজিদের হয়ে কামিন্স চারটি, লায়ন ও হ্যাজেলউড দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া স্টার্ক নেন এক উইকেট।
দুদলের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট শুরু হবে ১২ সেপ্টেম্বর, লন্ডনের ওভালে।








