একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের পক্ষ নেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে বিবৃতি দেওয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে কড়া জবাব দেবে বাংলাদেশ। অ্যামনেস্টিকে বাংলাদেশ ছাড়তে বলা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে তার মন্ত্রনালয়।
ডাচ প্রধামন্ত্রী মার্ক রুটের আমন্ত্রণে ৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার দিনের এই সফরের উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচির বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান’-এর আওতায় পানি ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী খনন, চর উন্নয়ন ইস্যুতে ডাচ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান মাহমুদ আলী। কৃষি গবেষণা, খাদ্য নিরাপত্তা, চামড়া শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, পাটজাত শিল্পে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বলেন, বদ্বীপ ব্যবস্থাপনাসহ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র ও নদী থেকে ভূমি সংযোজন ও পুনরুদ্ধার, ভূমি সংরক্ষণ, বন্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগীতার পরিধি আরো নিবিড় ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক বলেন, শতবর্ষব্যাপী বড় একটা পরিকল্পনা করা হবে, তারপর সেটার বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে। এই হলো মূলত ডেল্টা প্ল্যানের অবয়ব। একই সঙ্গে ফেয়ার প্রাইস নিয়ে কথা বলতে হবে। এই বিষয়ে একাধিক সরকার আগ্রহ দেখিয়েছেন, তার মধ্যে নেদারল্যান্ডও আছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধীদের পক্ষ নেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করায় কড়া প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা এরই মধ্যে তাদের রিপোর্ট পুরোটাই পড়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি শক্ত জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। কারণ তাদের এই বিবৃতির বেশিরভাগই অগ্রহণযোগ্য। সেখানে স্বাধীনতার সম্মানকে খর্ব করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। তাই এর প্রতিবাদ জানানো হবে।
মাহমুদ আলী বলে, এই বিষয়ে যা করা দরকার আমরা অবশ্যই তা করবো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এদিন বঙ্গোপসাগর ঘিরে থাকা দেশগুলোর জোট ‘বিমস্টেক’ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সচিবালয় ঢাকায় স্থাপনের চুক্তিও সই হয়।






