বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্যাম্পেইন শেষে আবারও মাঠে ফিরছে ইউরোপের জায়ান্ট লিগগুলো। স্পেন থেকে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স থেকে জার্মানি, সব লিগেই নিজেদের ঘরোয়া যুদ্ধে নামবে ক্লাবগুলো। এসব যুদ্ধে শনিবার নিশ্চয়ই বেশি আগুনে উত্তাপ ছড়াবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অ্যানফিল্ডের লাল-যুদ্ধ। যেখানে মুখোমুখি দুই চিরকালীন ফুটবল শত্রু ‘অলরেড’ খ্যাত লিভারপুল ও ‘রেড ডেভিল’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
লিভারপুল-ম্যানইউর ‘শত্রুতা’র ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯৬৪ সালের পর দুদল নিজেদের মাঝে কোনও খেলোয়াড় বেচাকেনাও করেনি। পরস্পরের দিকে কটুকথা ছুঁড়ে দেয়ার অভ্যাস আছে দুই কোচেরও। পাশাপাশি আধুনিক ফুটবলের দর্শনে নতুন কিছুর সংযোজন করেছেন হোসে মরিনহো ও ইয়ুর্গেন ক্লপ।
মরিনহোর তত্ত্বে ডিফেন্সই হচ্ছে সবকিছুর মূল। ঘর সামলে গোলের সুযোগ তৈরি করাই তার ট্যাকটিকসের মূল কথা। অন্যদিকে প্রেসিং ফুটবলই ক্লপের শেষ কথা। নির্দিষ্ট কোনও পজিশনে কেউ খেলেন না, সবাইকে মাঠজুড়ে খেলতে হবে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মুখোমুখি এই দুই দর্শন।
লিভারপুলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইতিহাস স্মরণ করেছেন ম্যানইউর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হুয়ান মাতা, ‘এরকম ম্যাচ আর হয় না। ইতিহাসে অনেক দারুণ দারুণ ম্যাচ হয়েছে। এরকম শত্রুতাও আর নেই। এই ম্যাচ খেলাটা বরাবরই বিশেষ কিছু এবং আমরা সৌভাগ্যবান যে, এরকম একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’
এবারের লাল যুদ্ধে মাঠে নামার আগে লিভারপুলের চেয়ে এগিয়ে আছে ম্যানইউ। চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে মরিনহোর দল। ৭ ম্যাচের ৬টিতে জিতে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ‘রেড ডেভিল’রা। বিপরীতে ক্লপের দলের অবস্থা অবশ্য খুব বেশি সুবিধার নয়। ৭ ম্যাচে জয় এসেছে মাত্র ৩টি। পয়েন্ট ১২, যা শীর্ষ দুই দলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট কম।

তবে নিজেদের ফিরে পেতে এমন আগুনে ম্যাচের কোনও বিকল্প হয় না। দলের পারফরম্যান্স ভাল না হলেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ব্রাজিল তারকা ফিলিপে কৌতিনহো। নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষকে শেষ করে দিতে পারেন মোহামেদ সালাহ-সাদিও মানেরাও। ম্যাচের আগে সতীর্থদের ম্যানইউর ওপর কঠিনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন লিভারপুল মিডফিল্ডার এমরি ক্যান।
তবে সাম্প্রতিক বিবেচনায় যেকোনো দিক থেকেই এগিয়ে লুকাকু-মার্শিয়ালরা। একের পর এক ম্যাচে গোল করে যাচ্ছেন লুকাকু। লিগে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭ গোল এসেছে এই বেলজিয়ান স্ট্রাইকারে পা থেকে। বাকিরাও দারুণ ছন্দে। তাই উড়ছে ম্যানইউও।
সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের হিসাবে যদিও একই অবস্থানে আছে দুই দল। যেখানে তিনটি ম্যাচই ড্র হয়েছে এবং বাকি দুটিতে একটি করে জয় পেয়েছে দুই দলই। তবে মাঠে নামলে সব ইতিহাস ও পরিসংখ্যান ভুলে গিয়ে নতুন কিছুর দেখা মেলে বলেই ইতিহাসে এমন ম্যাচগুলোর অবস্থান কিছুটা ভিন্ন।







