বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। নিজ মাটিতে অজি মেয়েদের পঞ্চমবারের মতো শিরোপা উল্লাস, নাকি নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দেখবে বিশ্ব, এমন প্রশ্ন সামনে রেখে সিডনিতে গড়াবে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ।
২০০৯ সালে শুরুর পর থেকে গত একদশকে আরও পাঁচটি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছে আইসিসি। প্রথম আসরে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হাতে শিরোপা ওঠে। বাকি পাঁচ আসরের চারটির ট্রফিই গেছে অজিদের ঘরে। কেবল ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার আগের তিন আসরের আধিপত্য ভেঙে শিরোপা নিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা।
টি-টুয়েন্টির ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে মেয়েদের ক্রিকেট দিয়েও সাফল্যের আশা করছে আইসিসি। নারী দিবসে ৮ মার্চের ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া খেলতে পারলে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ৯০,১৮৫ আসনের একটিও যে ফাঁকা থাকবে না, বিশ্বাস আয়োজকদের। এমন হলে ১৯৯৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রোজবোলে হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের পর এটিই হবে কোনো নারী টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ দর্শকের রেকর্ড!
আসর শুরুর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এবারও অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দাপট চলবে নাকি তাদের মাটিতেই জন্ম নেবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো নতুন কোনো চ্যাম্পিয়নের। আগের ছয় আসরের চারটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অজিরা গত দুবছরে ম্যাচ খেলেছে ৩১টি, জয় দেখেছে ২৬টিতেই। টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দলও তারা।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হতে পারে ভারত ও প্রথম চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। শেফালি ভার্মাদের মতো একঝাঁক তরুণী নিয়ে সাজানো দলটি। ভারত আগে কখনই সেমির গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এবার সেটা করে দেখাতে হলে খেলতে হবে ধারাবাহিকভাবে।
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের গ্রুপে পড়লেও নিজেদের সেরা সাফল্য আনার স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। টিম টাইগার্স এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এশিয়া সেরার মঞ্চে ভারতকে দুবার হারানোসহ পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেয়ার স্মৃতি আছে। শিরোপার মঞ্চে হারিয়েছিল ভারতকে।
টিম টাইগ্রেস অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেছেন, এবারের দলটা দারুণকিছু করে দেখানোর সামর্থ্য রাখে। কিছুদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা যুবা টাইগারদের থেকে অনুপ্রেরণা নেয়ার কথা বলেছেন সালমা। তার দলে আছে রুমানা-নিগারদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়। ব্যাটে-বলে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল লাল-সবুজের। আশার বেলুটাও তাই চওড়া হয়েছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মেয়েরাও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। গ্রুপ ‘বি’তে তাদের বাকি চার প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান। যাদের টপকে সহজেই ইংলিশ মেয়েদের সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল!
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে গ্রুপ ‘এ’তে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আছে ভারত, সুজি বেটসের নিউজিল্যান্ড, এশিয়া কাপের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলে এই গ্রুপ থেকে সেমিতে যেতে পারে যেকোনো দলই।
গ্রুপপর্বে মোট ২০টি ম্যাচ হবে। প্রতি গ্রুপের সেরা দুদল খেলবে সেমিতে। সেরা দুইয়ের ফাইনাল হবে মেলবোর্নে, ৮ মার্চ। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৪ ফেব্রুয়ারি, পার্থে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।








