‘ইমপ্রেস এর ছবি বানানোর বয়স প্রায় ২০ বছর হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সিনেমায় যখন খুব সংকীর্ণ অবস্থা তখন ইমপ্রেস ছবি বানানো শুরু করে। সেখান থেকে অনেক বড় কিছু করে ফেলতে পেরেছি এটা বলবো না, কিন্তু অসামাজিক ছবি থেকে সামাজিক ছবির দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে এনেছে কিন্তু ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি।’
বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ চ্যানেল আই ভবনে ‘আলতা বানু’ চলচ্চিত্রে অফিশিয়াল পোস্টার উন্মোচন করা হয়। এসময় বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কথাগুলো বলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাচসাস সভাপতি আব্দুর রহমান, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, চ্যানেল আই অনলাইনের ডিজিটাল অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর তৌফিক আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।
চলচ্চিত্র নিয়ে শাইখ সিরাজ আরো বলেন: আমাদের এখানে আরেকটা যে সংকট, সেটা হচ্ছে সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্র তৈরি হয় না। শুধু বাংলাদেশে নয়, পশ্চিম বঙ্গেও সাহিত্য নির্ভর ছবি হয় না। সত্তুর আশির দশকে যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেগুলোর অভিনয়, ছবির গান এখনো মানুষকে স্পর্শ করে। মনে দাগ কেটে যায়। তাহলে এখন এসব ছবি তৈরি হয় না কেনো? তারমানে কেউ যদি বলে দর্শকের রুচি পাল্টেছে, তাহলে তার সাথে আমি একমত নই। ক্ষেত্র বিশেষে হয়তো পাল্টেছে। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষের একটা সামাজিক জীবন আছে। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যাবে, পারিবারিক, সামাজিক আর সাহিত্য নির্ভর ছবি করলেও মানুষ দেখবে। সেই গুরুত্ব এখনো মানুষের মধ্যে আছে বলেই আমার মনে হয়।
কথায় কথায় তিনি মৌলিক গল্প নিয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান। বলেন: প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে গ্লোবালি আমাদের প্রতিযোগিতায় যাওয়ার মতো সক্ষমতা যেহেতু হয়নি, তাই মৌলিক গল্পে মনোনিবেশ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা পরিচিতি তৈরি করতে পারবো। ইরানি ছবির দিকে তাকালে দেখবেন, তারা কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে খুব স্ট্রং না, কিন্তু তারা স্থানীয় গল্প স্থানীয় চরিত্র নিয়ে সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েই কিন্তু চলচ্চিত্র বানায়। আর তারাই এখন প্রতিযোগিতা করছে সব জায়গাতেই। এজন্যই বলি, আমার দেশের গল্প, মৌলিক গল্প, সাহিত্য নির্ভর গল্প নিয়েই আমাদের এগুতে হবে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এই চেষ্টা করে যাচ্ছে।
‘আলতা বানু’ চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি বলেন: ‘আলতা বানু’র নাম শুনেই মনে হচ্ছে বাংলার সোনালী যুগের কোনো ছবি। এই ছবিটি একটি সফল ছবি হোক, এই প্রত্যাশা করি। সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখুক।
‘আলতা বানু’ পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাচসাস সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন: বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে সফল হওয়া এই সময়ে খুব কঠিন। কিন্তু ‘আলতা বানু’ যে পরিচ্ছন্ন একটি ছবি হিসেবে নাম করবে এই বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নাই। ছবিটির সফলতা কামনা করছি।
পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন: অরুণ দা অত্যন্ত গুণী মানুষ। তার বিগত দিনের কাজ দেখে, তার রুচি দেখে মনে হচ্ছে অবশ্যই ‘আলতা বানু’ ভালো কিছু হয়েছে। দর্শক নিশ্চয় ভালোভাবে চলচ্চিত্রটি গ্রহণ করবেন। এই বিশ্বাস আমি রাখি। আমি এই ছবির সফলতা কামনা করছি।
বানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা রিক্তা। তার মতে: অরুণ চৌধরীর সিনমোয় অভিনয় করতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করছি সবাই ছবিটি হলে গিয়ে দেখবেন। আমরা অনুপ্রাণিত হবো।
গেল বছরের জুলাই মাসে ‘আলতাবানু’ ছবির শুটিং শুরু হয়। টানা শুটিংয়ের মাধ্যমে ছবির কাজ শেষ হয়েছিল। ‘আলতাবানু’র শুটিং হয় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে শুটিং। ছবিতে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন ,জাকিয়া বারী মম , রিক্তা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, দিলারা জামান ও মামুনুর রশীদ। ফরিদুর রেজা সাগরের গল্পে সংলাপ লিখেছেন বৃন্দাবন দাস।
মূলত আলতা ও বানু নামের দুই বোনের জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে এগিয়েছে এই ছবির গল্প। ২ ঘন্টা ১০ মিনিটের ছবিতে আলতা চরিত্রে অভিনয় করবেন মম এবং বানু চরিত্রে অভিনয় করবেন ফারজানা রিক্তা। শুটিং ও ডাবিং ছাড়া ‘আলতা বানু’ ছবির যাবতীয় পোস্ট প্রডাকশনের কাজ করা হয় মাদ্রাজ থেকে।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন







