২৫৭। শুরুটা যেমন হয়েছিল, তাতে সংগ্রহ এরচেয়ে বেশি হতে পারতো। মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের কচ্ছপগতির কারণে সেটা হল না। মুশফিক, রিয়াদ যতক্ষণে দুটি অর্ধশতক করলেন, ততক্ষণে ৫০ ওভারের কোটা শেষদিকে। তাই মাঝারি মানের সংগ্রহ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে ৪ উইকেটের হার দেখে একটি বাক্যই উচ্চারিত হওয়ার কথা, পুঁজিটা কমই ছিল।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে। উত্তেজনাটা সেই অর্থে ডালপালা মেলেনি। কিন্তু তাই বলে ‘কাগুজে গুরুত্ব’ তো আর বসে থাকতে পারে না। এখন একটি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। সেটা বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য। ম্যাচ হারলে রেটিং পয়েন্ট কমবে। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব খেলা ছাড়া অংশ নিতে হলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দলের ভেতর থাকতে হবে। ১মে আইসিসি থেকে ঘোষিত র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯১। ওদিকে র্যাংঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মাশরাফিদের ১২ পয়েন্টের ব্যবধান। ৪ পয়েন্ট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ এখন ৭৯। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে তাই নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
ঘাসের উইকেটে টস জিতে এদিন বাংলাদেশকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। এমন উইকেটে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি কিছু থাকে না। অথচ বাংলাদেশ স্পিনেই বেশি ভুগেছে।
বাঁহাতি স্পিনার স্যান্টনার ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে এক উইকেট নিয়েছেন। লেগব্রেক বোলার ইশ সোধি ৪০ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। এই দুই স্পিনারই প্রথমে ব্যক্তিগত দশ ওভারের কোটা শেষ করেন।
বাংলাদেশি স্পিনাররা আবার খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। সাকিব আল হাসান ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে উইকেটহীন। মিরাজ ৮ ওভার করে ৪৫ রান দিয়েছেন, উইকেট নেই। লড়াইটা শুধু রুবেল আর মোস্তাফিজকে করতে দেখা গেল। মোস্তাফিজ নিজের প্রথম তিন ওভারে ৮ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ৯ ওভার করে ৩৩ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন। রুবেলও দারুণ কিছু ডেলিভারি দিয়ে নজর কাড়েন। ৫৩ রান খরচায় তার দখলেও দুই উইকেট।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা দারুণ হয়েছিল। উদ্বোধনীতে ৭২ রান আসে। রানরেট তখন পাঁচের কাছাকাছি। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিশাম অফস্টাম্পের বাইরে বাউন্সার দেন। তামিম পয়েন্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে যান। ধরা পড়েন কাভার অঞ্চলে সীমানার কাছে। ফেরার আগে ৪২ বলে ২৩ করে যান।
এরপর স্পিন বলে কাটা পড়েন সাব্বির (১)। স্যান্টনারের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। পেসিং উইকেটে সৌম্য এদিন নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখেন। কিন্তু তাকেও সেঞ্চুরির আগে ফিরতে হয় ওই স্পিনের ফাঁদে পড়ে। যাওয়ার আগে করেন ৬১। বল খেলেছেন ৬৫টি। ২৫তম ওভারের পঞ্চম বলে ইশ সোধিকে সুইপ করতে যেয়ে শর্ট-মিড উইকেটে ধরা পড়তে হয় তাকে।
সাকিবও (৬) বেশি কিছু করতে পারেননি। স্পিনার সোধির বলে ওয়াইড মিডঅফে নিশামের দারুণ ক্যাচে আটকা পড়েন। স্পিনাররা এভাবে বাংলাদেশের ইনিংসকে দুর্বল করে দেন।
পারিবারিক অস্থিরতার ভেতরে লুকিয়ে মুশফিক দারুণ খেলেছেন। নিশামের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়ার আগে ৬৬ বলে ৫৫ করেন।
শেষদিকে রিয়াদ রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ৫৬ বলে ৫১ করে বিদায় নেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন নিজের সহজাত ভঙ্গিতে খেলে গেছেন। ৪১ বলে ৪১ রান করেন তিনি।
জবাব দিতে নেমে কিউইরা ম্যাচের মেজাজ বুঝে বুঝে ব্যাটিং করেছেন। ৩৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারালেও কখনো তাদের শারীরিক ভাষায় চাপের আভাস মেলেনি। ওপেনার টম ল্যাথাম ৫৪ করে দলকে পথে রাখেন। মিডলঅর্ডারে নেইল ব্রুম ৬৫ বলে ৪৮ করে সেই পথ আরও সহজ করেন। বাকি কাজটুকু সারেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার জেমস নিশাম (৫২)। মাশরাফির বলে কাটা পড়ে তিনি যখন ফেরেন, তখন ২৪ বলে তাদের দরকার ছিল ১৭। মুনরো আর স্যান্টনার এই রান তুলতে একটু কেঁপেছেন বটে কিন্তু পিছলে যাননি। রেকর্ড গড়েই জয় তুলে নিয়েছেন। এই মাঠে এত রান তাড়া করে তারাই প্রথম জিতলেন। রেকর্ডের খাতায় হারার দলে নামটা থাকল বাংলাদেশের!







