প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারাদেশে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে, তা কতদিন চলবে? এমন প্রশ্ন এখানে-ওখানে ঘুরছিল কয়েকদিন ধরেই। এর উত্তর মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এর জবাব দিয়েছেন।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার অলআউট যুদ্ধে নেমেছে। যতদিন মাদক থাকবে, ততদিন অভিযান চলবে।
শুধু তাই নয়, মাদকবিরোধী যুদ্ধে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখিয়ে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।
সরকারি তথ্যে আমরা এরইমধ্যে জেনেছি, ১৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই অভিযানে রোববার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধ এবং নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮১ জন মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত হয়েছে।
এই অভিযান শুরুর ঠিক পাঁচদিন আগে চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েক হাজার কোটি টাকার ইয়াবা ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বাণিজ্যে শুধু যে রাজনীতিবিদরাই রয়েছে তা নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাসহ বলতে গেলে কমবেশি প্রায় সব পেশার লোকজনই জড়িত। তারা ভেবেছিল কেউ তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না।
তবে অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন এলাকার সেই সব দাপুটে লোকজনের আমরা পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি। তাদের কারো পরিণতি হয়েছে আরো ভয়াবহ। এই অবস্থায় জনগণের মধ্যে এক রকম আশার সঞ্চার হয়েছে। মাদকের শিকার অসংখ্য পরিবারের মুক্তি দেখছেন অনেকেই। সরকারকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তারা।
আমরাও মনে করি, মাদকের বিরুদ্ধে সত্যিকারের অভিযানে সরকার সাধুবাদ পেতেই পারে। এই ‘অলআউট যুদ্ধে’ প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই যেন শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এটা আমরা চাই। তবে এর আড়ালে কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
কয়েকটি গণমাধ্যম এরইমধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়া একাধিক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে সেখানে মাদক ব্যবসা নয়, ভিন্ন কিছু দেখেছে। এটা কারোরই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে আরো সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
সবকিছুর পরেও আমরা মনে করি, দেশে যেভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে এমন ‘অলআউট যুদ্ধই’ প্রয়োজন। এই যুদ্ধে মাদকের গডফাদাররা যেন নটআউট না থাকে সেটাই মানুষের চাওয়া।







