ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক আমদানি করে প্রকাশ্যে বিক্রয় হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে সাধারণ চালকদের যান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বগুড়া পৌর কর্তৃপক্ষ। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা হাকিম মোহাম্মদ হালিমুন রাজীবের নেতৃত্বে চালানো এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের সময় বেঁচে থাকার সম্বল হারিয়ে অসহায় চালকদের হৃদয়বিদারক কান্নার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এমনকি কোন ঘোষণা ছাড়া রোজগারের একমাত্র মাধ্যম বুলডোজারের নিচে পিষ্ট হওয়ার খবরে একজন চালকের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। যানজট নিরসনে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখলেও তাদের এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না, করতে পারি না।
কোন ধরণের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া গরিব রিক্সা চালকদের অসহায়ত্বের সুযোগে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এসব যানবাহন সড়কে যানজটের সৃষ্টি করলেও এজন্য মূলত দায়ী হচ্ছে যারা এসব অটোরিক্সা এবং ইজিবাইক আমদানি এবং বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি বগুড়ার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বরং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এটা স্বীকার করতে হবে যে, যানজট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। কিন্তু যানজট নিরসনের জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অপ্রতুল। এছাড়া মোটরযান আইনেও রুট পারমিট ছাড়া যেকোন গাড়ি চালালে বিভিন্ন পরিমাণের জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব কিছু না করে প্রান্তিক পর্যায়ের খেটে খাওয়া মানুষের শেষ সম্বল প্রশাসন কোনভাবেই এরকম নির্দয় পদ্ধতিতে গুঁড়িয়ে দিতে পারে না। এছাড়া অনেক চালক বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে রিক্সা কিনেছেন বলেও জানা গেছে। রিক্সা না থাকায় তারা এখন ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ বগুড়া জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অতি উৎসাহী সকলকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান করছি।








