ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ম্যাচে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ রানে নেন ৬ উইকেট। শেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান পেসার রায়ান হ্যারিসের তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি মুস্তাফিজ। তবে হ্যারিসের রেকর্ডটি ছিলো পাঁচ ম্যাচের সিরিজে।
শুধু মুস্তাফিজই নন, অভিষেক ম্যাচে অসাধারণ বল করেছেন বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও। ঠিক এক বছর আগে ভারতের বিপক্ষেই ২৮ রানে ৫ উইকেট দিয়ে ওয়ানডে যাত্রা শুরু করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। ডিসেম্বরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১ রানে চার উইকেট দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয় বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের।
২০১২ সালে অভিষেক ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন অফস্পিনার সোহাগ গাজী। লঙ্কানদের বিপক্ষেই ৩৩ রানে ৪ উইকেট দিয়ে অভিষেক হয় পেসার রুবেল হোসেনের।
২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অভিষিক ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা ২১ দশমিক ০৪ গড়ে নিয়েছেন ৪২ উইকেট। তাদের ওভার প্রতি রান দেওয়ার গড় ৪ দশমিক ৪৯। গড় হিসাবে বাংলাদেশের উপরে আছে কেবল সাউথ আফ্রিকার বোলাররা। প্রোটিয়াস অভিষিক্তদের গড় ১৯ দশমিক ৭০। তবে ওভার প্রতি রানে দেওয়ার গড় সব দলের চেয়েই বাংলাদেশের ভালো। যেখানে বাংলাদেশের পাঁচজন বোলারই অভিষেক ম্যাচে চার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।
সাউথ আফ্রিকারও পাঁচজন বোলার (ভারলন ফিল্যান্ডার, ইমরান তাহির, মার্সেন্ট ডি ল্যাঙ ও লনঅম্বে সোতসোবে) অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চারজন বোলার তাদের অভিষেক ম্যাচে তিন বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে ভারতের বোলারদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অভিষেকে প্রতিটি উইকেট পেতে ভারতীয় বোলারদের খরচ করতে হয়েছে ৪০ বেশি রান। তাদের চারজন বোলার(প্রভিন কুমার, ইরফান পাঠান, অভিমন্যু মিথুন ও করন শর্মা) তো অভিষেকে ৫০ বেশি রান দিয়ে উইকেট শূন্য থেকেছেন। মাত্র তিনজন ভারতীয় বোলার(বরুন অ্যারন, পিযুষ চাওলা ও রাহুল শর্মা) অভিষেক ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন।
অভিষেকের পারফর্মেন্স এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলের মধ্যে কোনো অর্থপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। তবে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনে আশাবাদী হতে পারে।
অভিষেক বোলারদের মতো গত আট মাসে অসাধারণ পারফর্ম করেছে বাংলাদেশ দল। এই সময়ে ঘরের মাঠে খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে টাইগারদের জয় ১০টি। তাও আবার টানা। বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফর্ম করার পর ঘরের মাঠে প্রথমে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। এরপর ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় তারা।
শুধু বাংলাদেশ নয় গত আট মাসে ঘরের মাঠে ভালো করেছে বিশ্বের প্রায় সবকটি দলই। নিজের মাঠে সাফল্যের হারে আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গত আট মাসে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৭৫ শতাশংই জিতেছে স্বাগতিকরা। এসময়ে দলগুলোর ৬১ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র ১০টিতে।







