বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি বেজোস অভিবাসী শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বেজোস দম্পতির ঘোষিত এই অনুদান এক হাজার ‘ড্রিমার’ শিক্ষার্থীর শিক্ষার পেছনে ব্যয় হবে। দ্যড্রিমডটইউএস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
অভিভাবকের সঙ্গে আসা বা পাচার হয়ে কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু-কিশোরদের যাতে দেশটি থেকে বহিষ্কার হতে না হয়, সেজন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডিএসিএ) আইন পাস করেছিলেন। ড্রিমারস বলে পরিচিত আইনটির বলে শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসীরা সে দেশে অবস্থান এবং নিজেদের বৈধকরণের সুযোগ পেতেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই আইনটি বাতিল করেন। তখন দেশটির বৃহৎ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি এসব অভিবাসীর পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
জেফ বেজোস বলেন, আমার বাবা মিগেল বেজোসের সম্মানে এ অর্থ অনুদান দিচ্ছি, যিনি ১৬ বছর বয়সে কিউবা থেকে একাই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই শিক্ষালাভ করেন এবং সে দেশেই বসবাস করেন। তিনি যখন এ দেশে এসেছিলেন, তখন সে ইংরেজিও বলতে পারতেন না। ওনার কঠোর মনোবল ও দৃঢ় সংকল্প এবং ডেলাওয়ারে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আমার বাবা এ দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি এখনো এ দেশকে প্রতিদান দিচ্ছেন। বর্তমান সময়ের ড্রিমারদের জন্য এ বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পেরে ম্যাকেঞ্জি ও আমি নিজেদের ধন্য মনে করছি।
জেফ বেজোসের মা-বাবা বেজোস ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন নামে একটি মানবসেবামূলক সংগঠন গড়ে তুলেছেন, যা শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা করে।
জেফ বেজোস ডিএসিএ আইনটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ড্রিমারদের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লিখিত চিঠিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ জন নির্বাহী স্বাক্ষর করেছিলেন। এদের একজন হলেন জেফ বেজোস।







