খাবারের মূল্য পরিশোধের সময় ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে দোকানদারদের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ভাড়া জটিলতা মোকাবেলাতেও একই ধরনের জনসম্পৃক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ব্লগার আরিফ জেবতিক।
আরিফ লিখেছেন, কয়েকদিন আগে উত্তরায় গাপুসগুপুস করে গিলে খানিক দম নিচ্ছি, তাকিয়ে দেখি পাশের টেবিলে দুইজন খুব মনোযোগ দিয়ে বিলের কপির ছবি তুলছে। ছবি তোলার মধ্যে ক্যাদরানি আছে, একবার টেবিলক্লথের উপর রাখছে তো আরেকবার একজন ধরছে আর আরেকজন ক্লিক দিচ্ছে। এতদিন সেলফি দেখেছি, কিন্তু চোখের সামনে এমন ‘বিলফি’ দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এরকম ‘বিলফি’বাজ লোকের সঙ্গে আলাপ জমানো দরকার।
“আলাপ জমিয়ে জানা গেল, এই কাজটি তাঁরা করছেন ভ্যাট ফাঁকি ধরতে। অনেক খাবারের দোকানই ভ্যাটের টাকা রাখে কিন্তু ভ্যাটের রসিদ দেয় না। এদেরকে ধরে ধরে সোপর্দ করা হচ্ছে।”
অনিয়ম রোধে নতুন এই পন্থার সূচনা সম্পর্কে ব্লগার আরিফ লিখেন, আমরা বাঙালিরা হুজুগে জাতি, প্রথম কেউ একজন একটা বিলের রসিদ প্রথমে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, ঢাকা উত্তর কমিশনারেট এর ফেসবুক পাতায় দিয়েছে, সেই রসিদ ধরে তদন্ত করে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ ভ্যাট ফাঁকি ধরে ফেলেছে- এখন সবাই প্রতিদিন এদের ইনবক্স ভরে ফেলছে। উত্তর কমিশনারেটের দক্ষ লোকজনও খানিক পরপর তদন্তের ফলাফল জানাচ্ছেন, গন্ডায় গন্ডায় পাওয়া যাচ্ছে এবং সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে।
ভ্যাট ফাঁকি ধরার প্রক্রিয়াটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আরিফ জেবতিক লিখেন, এখন ব্যাপারটা ভাইরাল হয়ে গেছে, আমি নিশ্চিত আপনি যদি ঢাকার উত্তর অংশে কোথাও খেতে যান তাহলে এমন বিলফি তুলতে থাকা লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে আপনারও।
এমন প্রচলনের প্রশংসা করে তিনি লিখেন, হুজুগ হলে এমন সুন্দর হুজুগ হওয়াই ভালো। মানুষ তাঁর অধিকারের ব্যাপারে সতর্ক থাকলেই অনেক বেআইনকে লাইনে নিয়ে আসা যায়।
সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ড্রাইভারদের যথেচ্ছাচার সম্পর্কে তিনি বলেন, এত কথা বলার কারন হচ্ছে গত ১ তারিখ থেকে সিএনজিগুলো মিটারে চলছিল। ঘুরপথে যাওয়া, রিক্সার পেছনে যাওয়া, খানিক পরে পরে পিলার দেখলেই পেচ্ছাপ চাপা-এত কিছু করেও আগের মতো করে সিএনজি ড্রাইভাররা সুবিধা করতে পারছিল না।
“আজকে উঠতে গিয়ে টের পেলাম যে সিএনজি ড্রাইভার খানিক গাঁইগুই করছে। একবার মনে হলো ‘বিশ টাকা বাড়িয়ে দেব’ বলে ফেলি। তারপর নিজেকে সামলালাম। এভাবেই আমরা ছিদ্র করে দিলেই অনিয়মের স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে যাবে।”
ভ্যাট ফাঁকি ধরার অভিনব এই উদ্যোগের মতো সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ভাড়া সংক্রান্ত নৈরাজ্য বন্ধ করতেও এমন কিছুর প্রত্যাশা করে তিনি লিখেন, আমি এখন অধীর আগ্রহ নিয়ে খুঁজছি এমন একটা পেজ অথবা নম্বর যেটিতে অভিযোগ জানানো যাবে। এই নাম্বার আমরা ভাইরাল করে দিতে পারব। যেখানে সিএনজিওয়ালা বেআইনি টাকা চাইবে সেখানেই অভিযোগ। আমি আর আপনি চাইলেই দেশ সিধা হওয়ার পথে এগুবে, নতুবা কাজ হবে না কিন্তু।







