অবাঙালি ভাষা সংগ্রামী, প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র কাহিনীকার জয়নুল আবেদীন ৮১ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে…….রাজিউন)। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির রক্তে যখন রক্তাক্ত ছিলো রাজপথ, ঠিক সেই সময়ে বাংলাকে ভালোবেসে পুরান ঢাকার দেয়ালে উর্দু ভাষায় ‘হামারি জবান, বাংলা জবান (আমার ভাষা বাংলা ভাষা)’ স্লোগান লিখেছিলেন এই অবাঙালি ভাষা সংগ্রামী। ২১ ফেব্রুয়ারির আগে পুলিশ যখন ১৪৪ ধারা জারি করে, তখন একটি বৈঠকে অনেক ভাষা সংগ্রামীর সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্র হিসেবে তিনিও ছিলেন। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি কারাবরণ করেন। নিজে উর্দুভাষী হলেও জয়নাল আবেদীনের বাংলার জন্য ছিলো অদম্য টান। পাকিস্তান নামের বর্বর রাষ্ট্র যখন বারবার এদেশের মানুষের ওপর হিংস্রতায় মেতে উঠেছে, তখন মানবিকতার প্রতীক ছিলেন জয়নাল আবেদিন। উর্দুভাষী এই ভাষা সংগ্রামী বাংলাদেশকে নিজের মায়ের দেশ হিসেবে মনে করে এদেশের সঙ্গে থাকতে পারায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেন। এমনকি পরিবারের সবাই পাকিস্তানে চলে গেলেও বাংলার টানে এ দেশে থেকে যান তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থনের কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে পছন্দ করতেন। তাই তাকে পাসপোর্টও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ অবাঙালি হয়েও বাংলার জন্য সংগ্রাম করা এই ভাষা সংগ্রামীকে পরবর্তীতে কোন সরকার একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় কোনো পুরস্কারে ভূষিত করেনি। এটা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত দু:খজনক একটি বিষয়। এমন মহৎ হৃদয়ের মানুষকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভূষিত করলে রাষ্ট্র নিজেই সম্মানিত হয় বলে আমরা মনে করি। তবে এখনও তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করে রাষ্ট্রের দায় শোধের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। তাকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করে রাষ্ট্রের দায় শোধের সুযোগ রয়েছে। দেরিতে হলেও রাষ্ট্র এই ভাষা সংগ্রামীর যথাযথ সম্মান দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। অবাঙালি এই ভাষা সংগ্রামীর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রইলো।








