অন্ধ বিশ্বাস ও মৌলবাদ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে যাতে রুদ্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে ছাত্রদের তৎপর থাকার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
তিনি বলেছেন, ‘পথ চলতে গিয়ে কেউ যাতে কোনো কিছুর মোহে বা সাময়িক লাভের প্রত্যাশায় বিপথগামী না হয় সে ব্যাপারেও সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আকাশ সংস্কৃতি এখন বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে মেনেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্য থেকেই ভালটুকু গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করতে হবে।’
সোমবার জামালপুরে সরকারী আশেক মাহমদু কলেজের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এমন আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে দূর করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, যাতে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে বিশ্বের অপরাপর দেশসমূহের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়। এগিয়ে যাওয়া যায়।’
এসময় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনে এবং রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ কলেজের ২৩টি ক্লাসরুমে যুক্ত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া। স্থাপিত হয়েছে আইসিটি ক্লাবসহ কম্পিউটারের বেসিক ট্রেনিংকোর্স। আশা করি এসব অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানটিকে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম করে তুলবে।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা লাভ করি লাল সবুজ পতাকা। মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।
‘আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছিলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার সূর্য সৈনিক। প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানিরা কলেজের ডিগ্রি হোস্টেলকে তাই পরিণত করেছিল টর্চার সেলে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থল-সীমান্ত চুক্তি, সমুদ্রবিজয়ের মাধ্যমে নতুন ভূখণ্ড লাভ বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ একটি প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে। অগ্রগতির এই ধারাটিকে অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। সবার উপরে দেশকে স্থান দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, রেজাউল করিম হীরা এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো: আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ সোহরাব হোসাইন প্রমুখ।







