‘তোকে যদি ওপেন করতে হয় পারবি?’
অনেকক্ষণ ভেবে মিরাজ উত্তর দেন, ‘পারবো।’
ফাইনালের আগের রাতে ডিনারে মিরাজকে এভাবে ওপেনিংয়ের প্রস্তাব দেন মাশরাফী। তারপর ভেবেচিন্তে দলের প্রয়োজনে অফস্পিনার মিরাজ ওপেনে ব্যাট করতে রাজি হয়ে যান। লিটন দাসকে নিয়ে গড়েন শতাধিক রানের জুটি। মিরাজ ৫৯ বলে খেলেন ৩২ রানের কার্যকরী ইনিংস। এশিয়া কাপ শেষে দেশে ফিরে শনিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিরাজ নিজের ওপেনার হওয়ার গল্প শোনালেন।
‘আমার জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। আমি ভাবতেও পারিনি যে ওপেন করবো। কখনো অভ্যাস ছিল না। অনেক ভেবে মাশরাফী ভাইকে বলি দলের প্রয়োজন হলে পারবো।’
শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে শুরু করার পর আফগানিস্তান, পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ । সেখানে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ে শেষ বলে হারতে হয় মিরাজদের।

মিরাজকে ওপেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস মাশরাফী পান মূলত গ্রুপ পর্বের ভারত ম্যাচের পর থেকে। ওই ম্যাচের আগে সাকিব-মাশরাফী মিরাজকে ডেকে অনেক কথা বলেন। সেসব শুনেই মিরাজ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
মিরাজের ভাষায় তিনজনের কথোপকথন ছিল এমন, ‘‘মাশরাফী ভাই, সাকিব ভাই আমাকে ডেকে অনেক কথা বলেন। ওনারা বলেন, ‘তুই তো ব্যাটিং পারিস। তাহলে হচ্ছে না কেন? তোর হবেই । একটু সাবধান থেকে ব্যাট করলেই তুই পারবি। তুই অনেক ভালো ব্যাটসম্যান।’ তারপর আমি কিছুটা আত্মবিশ্বাস পাই। ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলি।’’
পরদিন মিরাজ ভারতের বিপক্ষে ৯ নম্বরে নেমে ৫০ বলে ৪২ রান করেন। অষ্টম উইকেটে মাশরাফীর সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়েন।
ফাইনালে যেমন ছিল পরিকল্পনা
মাশরাফী মিরাজকে বলেন, ‘তোর উইকেটটা না দিয়ে খেলবি। তাহলে তোর সঙ্গে যে পার্টনার থাকবে তার জন্য ভালো হবে।’
মাশরাফী এমনও বলে দেন, প্রথম দশ ওভারে রান যত আসে আসুক। কোনো উইকেট যেন না পড়ে। ১০/২০ হলেও সমস্যা নেই।
মাশরাফীর মতো রিয়াদও মিরাজকে পরামর্শ দেন। ভারতীয় পেসারদের কথা বিবেচনা করে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান তরুণ মিরাজকে বলেন, ‘শর্ট বল খেলবি না। সামনে সামনে খেলার চেষ্টা করবি।’







