বেসরকারি খাতের এনঅারবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে সংঘটিত আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালকের পদ হারালেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আহসান। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার আভিযোগ থাকার কারণে শহীদুল আহসানের নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তার পরিচালকের পদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ব্যাংকের ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তাকে পুনরায় পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি চেয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আবেদন করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি চিঠি পাঠায়। এতে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে সংঘঠিত আর্থিক অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়ে দিয়েছে শহীদুল আহসানের নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া যাচ্ছে না।
ওইদিনই চিঠিটি গ্রহণ করে মার্কেন্টাইল ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে পরিচালকদের তালিকা থেকে শহীদুল আহসানের নাম সরিয়ে ফেলে।
তবে পরিচালক পদ হারালেও গত শুক্র ও রোববার অথর্মন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে যে বৈঠক করেছিল ব্যাংকক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি) সেখানে শহীদুল আহসান অংশ নিয়েছিলেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কে এম সাহিদ বলেন, ‘তাকে (শহিদুল আহসান) পরিচালক পদে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি। এ কারণে তিনি আর মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক থাকছেন না।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকের ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচিত পরিচালক এ এস এম ফিরোজ আলম এবং মোশাররফ হোসেনকে পরিচালক নিযুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হলো। তবে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে সংঘটিত আর্থিক ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শহীদুল আহসানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় এ পর্যায়ে তার নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া গেলো না।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়। তার নিয়োগে অনাপত্তি দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৫ (৪) ধারা অনুযায়ী, বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযুক্ত বা পদায়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়।
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ব্যাংকটির এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ১০ ডিসেম্বর ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ফরাছত আলী মিয়া দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ওইদিন ব্যাংকটির বিভিন্ন পদে আরও পরিবর্তন আসে।
এর আগে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে দেয়া নোটিশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই দুইজনের অপাসারণের ১০টি কারণ তুলে ধরেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নোটিশ অনুযায়ী ১০টি কারণের মধ্যে ৭টির সঙ্গেই জড়িত ছিলেন শহীদুল আহসান।








