বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বুধবার বিএনপির অনশন বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও তিন ঘণ্টা আগেই কর্মসূচি শেষ করে দেয়া হয়েছে।
পূর্ব ঘোষিত তিনদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেষ দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করার কথা থাকলেও প্রশাসনের নির্দেশে বেলা ১টার দিকেই কর্মসূচি শেষ হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ অনশন ভঙ্গ করান।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপিকে ছাড়া সরকার নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস। প্রশাসন বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবুও তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়াও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ মামলার অন্য চার অাসামীকে বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়াও আত্মসাৎ করা ২ কোটি, ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা খালেদা জিয়া বাদে অন্য অাসামীদের জরিমানা করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার তিন মামলায় ওকালতনামায় সই নেয়ার জন্য পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াসহ ৪ আইনজীবী। জেল কর্তৃপক্ষ ওকালতনামার কপি গ্রহণ করে। আইনজীবীরা ওকালাতনামায় সই নিতে বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের আবেদন করলে ওকালতনামায় বেগম জিয়ার সই করিয়ে রাখবেন বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
পরে কোন এক সময়ে আইনজীবীদের ওকালতনামা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে বলেও তখন জানান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। বুধবার খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর জামিন আবেদন করা হবে বলে জানান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
মঙ্গলবারই সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, কারাগারে থাকা বেগম খালেদা জিয়াকে অন্য কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। দু’টি মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট থাকলেও ওই মামলা দু’টিতে জামিনে আছেন তিনি।








