গত ১৮ বছর। সাফল্যের গ্রাফটা সময়ের সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। টেস্ট খেলা প্রায় সব দেশের বিপক্ষেই বিদেশের মাটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। কেবল অধরা থেকে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বুধবার ক্লনটার্ফে সেই ‘অধরা’ নিউজিল্যান্ডকেও ধরা হল। সেইসঙ্গে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বর আসনটা কব্জা করে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাটাও নিশ্চিত করল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
বিদেশের মাটিতে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। এই মে মাসেই বিদেশের মাটিতে কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে এসেছিল প্রথম জয়টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই জয়ের পর পাঁচ বছরের অপেক্ষা ছিল। ২০০৪ সালের ১০ মার্চ, হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ রানে জয়। পরে একে একে ধরা দিতে বাধ্য হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। এসসব দেশের বিপক্ষে দেশের বাইরে জিততে কখনো স্বাগতিকদের ভেন্যু, কখনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বিজয় মশাল উড়িয়েছে টাইগাররা।
সেখানে ভারতের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে প্রথম জয়টা এসেছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে, পোর্ট অব স্পেনে। ওই হারের পর বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যায় ভারত। সেবারই গায়ানায় সাউথ আফ্রিকাকে প্রথম হারায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম জয়টি ২০০৯ সালে। ইংল্যান্ড বধ সেখানে ২০১০ সালে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিদেশে প্রথম জয়টি আসে ২০১৩ সালে, পাল্লেকেলেতে। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র জয়টি ২০০৫ সালে, কার্ডিফের সেই অমর কাব্যগাঁথা।
বাকি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেটি এল। কিউইদের বিপক্ষে ৯ নম্বর জয়ের ম্যাচে। প্রথম জয়টা এসেছিল ২০০৮ সালে, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। পরে ২০১০ সালে লাল-সবুজের মাটিতে এসে ৪-০তে বাংলাওয়াশ হয়েছিল কিউইরা। ২০১৩ সালে এসে ৩-০ ব্যবধানে হারে। বিদেশে এটিই প্রথম।
সবমিলিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, মোট ১৪টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ বার। পরে আছে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা, দল দুটির বিপক্ষে দুবার করে জিতেছে টাইগাররা।








