মো. গিয়াস উদ্দিন বাবু: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিনবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে ভাস্কর্যটি।
প্রায় ২৩ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্যটিতে বলিষ্ঠ ও তেজোদীপ্ত এক নারীসহ চার মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি আছে। যা মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের মাঝামাঝি, আর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। স্থপতি গোপাল চন্দ্র পাল শৈল্পিক দক্ষতায় মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্যপূর্ণ দিক সমূহ ফুটিয়ে তুলেছেন এ ভাস্কর্যে।
ভাস্কর্যটির মূল বেদীর চারপাশে পোড়ামাটির ফলকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি,বধ্যভূমির বর্বরতা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র।
যার মাধ্যমে দর্শণার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা পাবে। ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস শৈল্পিক কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রতিদিন পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য দর্শণার্থী ভাস্কর্যটি দেখার জন্য ক্যাম্পাসে ভিড় জমায়। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিশুদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য অবসর সময়ে এখানে আসেন তারা।
বিকেল হলেই তারুণ্যের আড্ডা বসে অদম্য বাংলার পাদদেশে। পড়ন্ত বিকেলের নিস্তেজ সূর্য এক সময় দিগন্তে হেলে পড়ে। কিন্তু তেজোদীপ্ত ভঙ্গিমায় অদম্য বাংলা সর্বদা মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে থাকে সমহীমায়।








