মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া নিয়ে বিএনপি এবং দলের
চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখন নীরব থাকলেও একসময় এ বিচারের সরাসরি
বিরোধিতা করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি ছিল তাদের। এখন পর্যন্ত দলটির
জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ চার নেতা ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক
সদস্যের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়ে বিভিন্ন সময় বিএনপি নেত্রী এবং অন্য নেতারা যেসব কথা বলেছেন তার কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ:
— সেই সময় জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক শেষে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ তিন নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা চরম স্বৈরাচারী পন্থায় রাজনৈতিক নিপীড়ণের এক জঘন্য নজির। (সূত্র: প্রথম আলো)
— সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খালেদা জিয়া বলেন, বিচারের নামে প্রহসন ও বিনা বিচারে আটকে রাখার আর এক জঘন্য ফাঁদ যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই ট্রাইব্যুনালের আইন, বিধি ব্যবস্থা তদন্ত ও গঠন প্রক্রিয়া কোনো কিছুই স্বচ্ছ কিংবা আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নয়। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সে কথা পরিস্কার বলে দেওয়া হচ্ছে। তবুও সরকার এই বিচারের নামে বিরোধী দল দমনের পথ বেছে নিয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের অনুষ্ঠানটিতে খালেদা জিয়া আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। কিন্ত আমরা বিচারের নামে প্রহসন করে বিরোধী দলকে দমনের অপচেষ্টার বিরোধী। সরকারি দলে অনেক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। কাজেই যুদ্ধাপরাধের প্রকৃত বিচার করতে হলে তাদের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। (সূত্র: বাংলা নিউজ২৪.কম)

— সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চার দলীয় জোটের সমাবেশে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন চলছে বলে দাবি করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসন ছাড়া কিছু নয় বলে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী একসময় জামায়াতে ইসলামীকে পাশে বসিয়ে রাজনীতি করেছেন। তখন কোথায় ছিলো যুদ্ধাপরাধ? জামায়াত তখন এত প্রিয় ছিল আর এখন কেনো এতো খারাপ হলো? একসময়তো একসঙ্গে নির্বাচনও করেছেন। এখন যাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে, তাদের বিচার মানুষ মানে না।(সূত্র: ডিডাব্লিউ, প্রথম আলো)
— যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন খালেদা জিয়া। চারদলীয় জোটের উত্তরাঞ্চল অভিমুখী রোড মার্চে বগুড়ার এক বিশাল জনসভায় বিএনপি নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে আমাদের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। এ বিচারের ক্ষেত্রে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত ছিলো, কিন্তু তা করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলীয় লোক দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং ঘাতক দালার নির্মূল কমিটির সদস্যরা এর মধ্যে রয়েছে, কাজেই এখানে স্বচ্ছ বিচার হতে পারে না। (সূত্র: রেডিও তেহরান)
— তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের রোডমার্চ কর্মসূচীতে আয়োজিত পথসভাগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, বিচারের নামে প্রহসন চলছে। ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখী কর্মসূচীতে গাজিপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পথসভা ও বগুড়ার জনসভায় বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এসময় তিনি বলেন, সরকারবিরোধী চারদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে আগে নিজের দল ও পরিবারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের ধরে বিচার করুন। (সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ)
— যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবুল কালাম আজাদের মামলার রায়ের একদিন আগে বিএনপির এক সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সত্যিকার অর্থে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছে না। তারা বিচারের নামে প্রহসন করছে। আমরা সব সময় বলে আসছি, বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচার চায়। তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ। (সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম)
— বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী যুদ্ধাপরাধী দলীয় শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসে। জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে মোনাজাতও করা হয়। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, গুম-খুন-হত্যার প্রতিবাদ. বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিহতের মতো জনদাবীতে আয়োজিত সমাবেশস্থলে যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির দাবিদারদেরই সংখ্যাধিক্য-আধিপত্য ছিলো। (সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
— জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, ভোটের তারিখ ঘোষণার পর সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন, রাজবন্দিদের মুক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে থাকা ‘মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা’ প্রত্যাহারসহ সরকারকে দেয়া সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে এক প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারের কথা বলেছি। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।” (সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম)







