চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘৪০২’ রানের ম্যাচে মুশফিকদের জয়

সিলেট থেকে: বিপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১৪ রানের পুঁজি তুলে ম্যাচটা অনেকটাই নিজেদের করে নিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের চট্টগ্রাম ভাইকিংস। শেষ পর্যন্ত জিতেছে তারাই। শুরুতে বিপর্যয়ে পড়েও দুইশর কাছাকাছি রান তুলে হারের ব্যবধান কমাতে পারার স্বস্তি নিয়ে সিলেট পর্ব শেষ করেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটানস।

সিলেটে একমাত্র ম্যাচটি খেলতে আসা চট্টগ্রাম জিতেছে ২৬ রানে। দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে এসেছে ৪০২ রান। টানা তিন জয়ে এক ম্যাচ কম খেলেই পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মুশফিকদের দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: চট্টগ্রাম-২১৪/৪, খুলনা-১৮৮/৮

ঘরের ছেলে আবু জায়েদ রাহি জ্বলে উঠলেন বল হাতে তুলে নিতেই। প্রথম দুই ওভারে তার শিকার দুই উইকেট। সিলেটের আরেক পেসার খালেদ আহমেদ যোগ দিলেন উইকেট নেয়ার উৎসবে। ১৮ রান তুলতেই খুলনা হারায় ৩ উইকেট।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ব্রেন্ডন টেলর ৩৬ বলে ৬৮ রান যোগ করে খানিকটা প্রতিরোধ গড়লেও তারা সাজঘরে ফিরতেই আর ঘোরেনি টাইটাইনসের রানের চাকা।

মাহমুদউল্লাহ করেন ২৬ বলে ৫০ রান। তার ইনিংসে ছিল চার ছয়, তিন চার। টেলরের ব্যাট থেকে দুই ছয় ও দুই চারে আসে ১৬ বলে ২৮ রান। শেষদিকে ডেভিড ওয়াইস ২০ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে খুলনার হারের ব্যবধান কমান।

আবু জায়েদ নেন তিন উইকেট। ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ও খালেদ নেন দুটি করে উইকেট। নাঈম হাসান শিকার করেন একটি উইকেট।

মিরপুরে টানা চার ম্যাচ হেরে সিলেট আসা খুলনা নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পায় এখানে নামতেই। তবে পরের দুই ম্যাচ হাতছাড়া করে আবার হারের বৃত্তে আটকাল মাহমুদউল্লাহরা।

শনিবার রাতের ম্যাচটি খেলতেই সিলেট এসেছিল মুশফিকের দল। মিরপুরে চার ম্যাচে তিন জয় তোলা দলটি ঢাকা ফিরে যাচ্ছে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে। শেষের টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছে তারা।

এবারের আসরে দুইশ ছাড়ানো ইনিংস এসেছে তাদের মাধ্যমেই। যেটি বিপিএলের গত পাঁচ আসর মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১৩ আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ২১৭ রান এখনও সর্বোচ্চ ইনিংস।

শনিবার সিলেট পর্বের শেষ দিনটিতে দুপুরের ম্যাচেও রানের উৎসব দেখেছে দশর্করা। সিলেট সিক্সার্সের দেয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য ৩ বল হাতে রেখে জেতে রংপুর রাইডার্স। একই উইকেটে ম্যাচ হওয়ায় রানের জোয়ার দেখা গেছে সন্ধ্যায় ভাইকিংস ইনিংসে।

শুরুতেই মোহাম্মদ শাহজাদ হন আগ্রাসী। পরে ইয়াসির আলি ও মুশফিকের টানা দ্বিতীয় অর্ধশতকে ৪ উইকেট হারিয়ে চিটাগং তোলে ২১৪ রান।

টস ভাগ্যে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রানের মাথায় ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্টকে হারায় চট্টগ্রাম। রানে ভরা ইনিংসে ১৩ রান করা প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান একাই কেবল ফ্লপ। বাকি ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলেন খুলনার বোলারদের।

১৭ বলে ৩৩ করেন শাহজাদ। মারেন তিনটি করে চার ও ছক্কা। পরে ৮৩ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ইয়াসির-মুশফিক।

৩৬ বল খেলে ৫ চার ও ৩ চারে ৫৪ রান করেন ইয়াসির। আর ৩৩ বলে ৫২ রান করেন মুশফিক। চট্টগ্রাম অধিনায়ক চার মেরেছেন ৮টি, ছক্কার মার ছিল একটি।

শেষদিকে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন সানাকার ১৭ বলে ৪ ছয় ও ৩ চারে অপরাজিত ৪২ রানের ঝড়ে হেসেখেলে দুইশো পেরোয় চট্টগ্রাম। শুভাশিস রায়ের শেষ ওভারে আসে ২৩ রান।