চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১৩৭ বছর আগে ‘বিলুপ্ত’ গেছো ব্যাঙের সন্ধান

বিশেষ প্রজাতির একটি গেছো ব্যাঙ খুঁজে পাওয়া গেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনে। অথচ বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন এই প্রজাতিটি আজ থেকে প্রায় ১৩৭ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বিস্ময়কর এ আবিষ্কারটি করেন ভারতের প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী সত্যভামা দাস বিজু এবং তার গবেষণা দল।

বিজ্ঞাপন

গল্ফ খেলার বলের মতো আকারের ব্যাঙগুলো মাটি থেকে প্রায় ৬ মিটার ওপরে গাছের কোটরে বসবাস করে। মনে করা হচ্ছে এ কারণেই হয়তো তারা এতোদিন অনাবিষ্কৃত রয়ে গিয়েছিলো।

আবার অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, এ ধরণের প্রত্যন্ত এলাকায় খুব কম বিজ্ঞানীই গবেষণার জন্য যান বলে বিরল এ প্রজাতিটির দেখা আগে পাওয়া যায়নি।

গাছের গর্তে জমে থাকা পানিতে এই ব্যাঙ ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে ব্যাঙাচি বের হওয়ার পরই কেবল মা ব্যাঙ ফিরে আসে ঘরে। অ-নিষিক্ত ডিম খাওয়ানো হয় ব্যাঙাচিদের। তবে পূর্ণবয়স্ক গেছো ব্যাঙগুলো অন্যান্য প্রজাতির ব্যাঙের মতো কীটপতঙ্গ খায় না। এরা তৃণভোজী।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য প্রজাতির ব্যাঙাচির তুলনায় নতুন এই প্রজাতির ব্যাঙাচিদের চোখ দু’টো কাছাকাছি থাকে। তাই এরা সহজেই সামনে থাকা খাবার ভালোভাবে দেখতে পায়।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটি ২০০৭ সালে ভিন্ন গবেষণার কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ করেই খুঁজে পেয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ‘ফ্রগম্যান’ খ্যাত সত্যভামা দাস বিজু। ৮৯ প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারের জন্য এ উপাধি পান তিনি।

প্রফেসর বিজু বলেন, ‘গাছের ওপর থেকে আমরা অর্কেস্ট্রার মতো জোরালো গুঞ্জন শুনে কৌতুহলী হয়ে উঠি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এই ‘বিলুপ্ত’ প্রজাতি।’

এই আবিষ্কারের পর আশা করা হচ্ছে, এবার এই প্রজাতির ব্যাঙ চীন থেকে থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, নতুন গবেষণায় ডিএনএ বিশ্লেষণ করে প্রজাতিটিকে একেবারে নতুন ‘গণ’-এর (Genus) অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে এসেছেন বিজু এবং তার সহকর্মীরা।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এই গেছো ব্যাঙ পাওয়া যাওয়ায় এরা যে বিলুপ্ত নয়, তা নিশ্চিত হওয়া গেলো বটে। তবে এরা এখন চলে এসেছে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায়।

বন ধ্বংস করা বন্ধ করে জনগণকে সচেতন করা না গেলে প্রজাতিটি এবার সত্যি সত্যিই বিলুপ্ত হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রফেসর বিজু।