চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১৩শ’ যাত্রী নিয়ে সমুদ্রে জাহাজের ইঞ্জিন নষ্ট, হেলিকপ্টারে উদ্ধারচেষ্টা

হঠাৎ করে ইঞ্জিনের সমস্যায় নরওয়ে উপকূল থেকে কিছু দূরে ১৩শ’ যাত্রী নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ভ্রমণতরী থেকে হেলিকপ্টারে করে বেশিরভাগ যাত্রীকে নিরাপদে তুলে আনতে সফল হয়েছে উদ্ধারকর্মীরা।

এখনো চলছে উদ্ধার চেষ্টা।

বিজ্ঞাপন

নরওয়ের পশ্চিম উপকূলীয় কাউন্টি মোর অগ রোমসডাল পুলিশ জানিয়েছে, ওই উপকূল থেকেই শনিবার যাত্রা করেছিল এমভি ভাইকিং স্কাই নামের জাহাজটি। উপকূল থেকে অনেকখানি দূরে যাওয়ার পর শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই এর ইঞ্জিনগুলোতে সমস্যা দেখা দেয়।

কিছুক্ষণের মধ্যে চারটি ইঞ্জিনের মধ্যে একটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বাকি ইঞ্জিনগুলোও বন্ধ হয়ে গেলে প্রচণ্ড ঝাঁকি দিয়ে মাঝ সমুদ্রে থেমে যায় যাত্রীবাহী ভ্রমণতরীটি।

নরওয়ের নৌ-উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভাইকিং স্কাই থেকে সাহায্যের আবেদন করে পাঠানো ডিসট্রেস সিগন্যাল পেয়েছিল তারা। সংকেত পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের উদ্ধারে ৫টি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এর মধ্যে উদ্ধারকাজে যাওয়ার পথে ‘হ্যাগল্যান্ড ক্যাপ্টেন’ নামের একটি ফ্রেইটারেরই হঠাৎ করে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে তার ক্রুদের উদ্ধারের জন্য ওই ৫টি হেলিকপ্টারের দু’টিকে এমভি ভাইকিং স্কাইয়ের কাজ থেকে সরিয়ে সেখানে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বৈরী আবহাওয়ার কারণে পুরোটা সময় সমুদ্রে তীব্র ঝড়ো হাওয়া এবং ১০ মিটারের চেয়েও উঁচু বড় বড় ঢেউ ছিল বলে জানানো হয়েছে। এখনো পুরো এলাকায় ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করার কারণে উদ্ধার চেষ্টায় দেরি হচ্ছে।

সারারাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে ভ্রমণতরীটির ক্রুসহ বেশিরভাগ আরোহীকে নিরাপদে বের করে আনতে সফল হয় উদ্ধারকারী দল। রোববার সকালে চারটি ইঞ্জিনের তিনটি কোনোমতে চালু করে নিকটতম বন্দরের কাছে পৌঁছাতে সমর্থ হয় জাহাজটি।

হেলিকপ্টারে উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, দুপুরের খাবারের সময় হঠাৎ করেই কাঁপতে শুরু করে জাহাজটি। কিছুক্ষণ পর পুরো জাহাজ প্রচণ্ড জোরে কয়েকবার ঝাঁকি খায়। ঝাঁকিতে জানালা ভেঙে জাহাজের ভেতর পানি ঢুকতে শুরু করলে ভয় পেয়ে যান যাত্রীরা।জাহাজ-নরওয়ে-হেলিকপ্টার

উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগে এমভি ভাইকিং স্কাইয়ের সাহায্যে সবার আগে এগিয়ে এসেছিল কাছে থাকা একটি মাছ ধরার জাহাজ। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন জ্যান এরিক স্থানীয় পত্রিকা আফেনপোস্টেন’কে বলেন, জাহাজটি যদি সময়মতো ইঞ্জিনগুলো চালু করতে না পারত তাহলে সামনে থাকা ডুবো পাথরে ধাক্কা খাওয়া থেকে কেউ তাকে ঠেকাতে পারত না। এমনটা ঘটলে যাত্রীসহ পুরো জাহাজই ডুবে যেত।

নৌ-উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, ভাইকিং স্কাইয়ের অধিকাংশ যাত্রী ব্রিটিশ এবং আমেরিকান। বর্তমানে জাহাজটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

এ পর্যন্ত উদ্ধার করা যাত্রীদের মধ্যে ৮ জন আহত এবং তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে এনআরকে।