চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১১ বছরে ভোক্তা অধিকারে অভিযুক্তদের জরিমানা ৭৩ কোটি টাকা

অভিযোগকারীরা পেয়েছেন প্রায় কোটি টাকা

দেশব্যাপী ক্রেতাদের অভিযোগ এবং নিজ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে গত ১১ বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আর অভিযোগ করে ভোক্তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেয়েছেন ১ কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোববার ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। দুই পদ্ধতিতে আমরা জরিমানা করে থাকি। এর একটি হলো সহ-উদ্যোগে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালানো। অন্যটি হলো- ক্রেতা বা গ্রাহকেরা প্রতারিত হয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

বাবুল কুমার সাহা জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১১ বছরে ভোক্তার অভিযোগ ও সহ-উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭২ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে ভোক্তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ হাজার ৭৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৫২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী ভোক্তাকে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে অভিযান চালিয়ে ৯৭ হাজার ৩০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ৪৪২ টাকা জরিমানা করেছে। এ জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। ভোক্তার অভিযোগ ও বাজার অভিযানের মাধ্যমে করা জরিমানা থেকে মোট ৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ১২৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৪ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ১০০ টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ২০০ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫০ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ১০ কোটি ৫৭ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তা অধিকার দিবসের বিষয়ে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২১ উদযাপনের সুযোগ সামনে আসায় এ দিবসটি এবার ভিন্ন মাত্রা নিয়ে উদযাপিত হবে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘মুজিববর্ষে শপথ করি, প্লাস্টিক দূষণ রোধ করি’।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সবগুলো বিভাগীয় শহর, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি পালন করা হবে।

তিনি বলেন, দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে সোমবার বিকাল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।