তুলির আঁচড়ে গতিময় চিত্রকর্মের স্রষ্টা ভ্যান গগের জীবনী নিয়ে আসছে অ্যানিমেশন ঘরানার চলচ্চিত্র ‘লাভিং ভিনসেন্ট’। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা
এই চলচ্চিত্রে ভ্যান গগের ছবিগুলোর সাহায্যে তুলে ধরা হবে তার ৩৭ বছরের
ঘটনাবহুল বিচিত্র জীবন।
তবে আসল কথা হলো এই অ্যানিমেশনে শুধুমাত্র প্রচলিত
ধারার কম্পিউটার নির্ভর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। অভিনব ধারায় ভ্যান গগের চিত্রকর্মগুলোকে চলচ্চিত্র রূপ দিতে ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ এ ব্যবহৃত হয়েছে ১’শ জনেরও বেশি চিত্রশিল্পীর হাতে আঁকা তৈলচিত্র।
‘লাভিং ভিনসেন্ট’ চলচ্চিত্রে একটি ছবিকে চলমান দেখাতে শিল্পীদেরকে প্রতি সেকেন্ডে একাধিকবার তুলি বোলাতে হয়েছে। বরং বলা ভালো প্রতি সেকেন্ডে কয়েকটি ছবি আঁকতে হয়েছে।
দিনে ১০ ঘণ্টা পরিশ্রমের পর মোট ৬৩ হাজার চিত্রাংশ জোড়া দিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
চলচ্চিত্র হচ্ছে একেরপর এক অসংখ্য স্থির চিত্রের একটা চলমান রূপ। বর্তমান সময়ে যে ভিডিও বা মুভি হয় তার সবই একেকটি ভিন্ন ভিন্ন ছবির ফ্রেম জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়।
হলিউডের অ্যানিমেটেড মুভি বা কার্টুন মুভিগুলোও বানানো হয় একই কায়দায়। কিন্তু এগুলো সবই এখন করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি (সিজিআই)। ফলে হাতে তৈরি নির্মাণ শিল্পের জায়গা এখন আর চলচ্চিত্রে নেই। এখন প্রত্যেক সপ্তাহেই আসছে কম্পিউটার নির্মিত ব্লকবাস্টার সব মুভি। হাতে আঁকা চলচ্চিত্রের কথা এখন কল্পনা করা যায় না।
ঠিক এই কারণেই ১৯ শতকের বিশ্ব বিখ্যাত ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের জীবনের উপরে নির্মিত অ্যানিমেশনটি নজর কেড়েছে সবার।
বিশাল এই কর্মযজ্ঞের নের্তৃত্ব দিয়েছেন পোলিশ শিল্পী ডোরোটা কবিয়েলা আর চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন অস্কারজয়ী প্রযোজক হিউ ওয়েলখম্যান। এটি বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ হাতে আঁকা ফিচার ফিল্ম। এই চলচ্চিত্রে ভ্যান গগের জীবন এবং রহস্যময় মৃত্যুর বিষয়টি দেখানো হয়েছে। গল্পটি সাজানো হয়েছে ভ্যান গগের আঁকা ১২০টি পেইন্টিং এবং ৮০০ চিঠির উপর ভিত্তি করে।
ভ্যান গগের জীবন, চিত্রকর্ম আর রহস্যে ঘেরা মৃত্যু নিয়ে বিশ্ব জুড়ে আলোচনার কমতি নেই। ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভ্যান গগের চিত্রকর্মে ডুবে এক অন্যরকম অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। তার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে এই চলচ্চিত্র।







