চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাসপাতালে অভিযানের আগে ‘পরামর্শ’র চিঠি নিয়ে হাইকোর্টের রুল

দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের আগে ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ও পরামর্শ’ করতে হবে বলে দেয়া চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দেয়া চিঠির বৈধ চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি তারিক ‍উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

আগামি চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আজ রিট আবেদনের পক্ষে ভার্চুয়াল শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের আজকের এই রুল জারির ফলে হাসপাতালে অভিযান পরিচালনায় বাঁধা তৈরি হল কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আদালত যেহেতু সরাসরি চিঠির কার্যকারীতা স্থগিত করেনন। তাই আমি মনে করি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রয়োজনে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনায় আপাতত কোনো বাঁধা নেই বলেই মনে করি।’

গত ৪ আগস্ট দেশের সরকারি – বেসরকারি হাসপাতালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পরে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা নানা বিষয়ে অভিযান করছেন। একটি হাসপাতালে একাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করাতে হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং এ কারণে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

২) ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করার জন্য একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাও সদস্য হিসেবে আছেন। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অপারেশন পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা করা যাবে।

৩) এমতাবস্থায় যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ রূপ অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকা এবং জরুরি অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক পরিচালনা করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’

এর আগে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতার মধ্যেই রোগীদের থেকে বাড়তি বিল আদায়, ভুয়া প্রতিবেদন তৈরিসহ নানা অভিযোগে কয়েকটি হাসপাতালে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর গত ৪ আগস্ট দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে চিঠি দেয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান হাইকোর্টে এবিষয়ে রিট করেন।