চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাল না ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের হয়ে নির্বাচন করবেন জো বাইডেন। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ডেমোক্র্যাট দলের চারদিন ব্যাপী ন্যাশনাল কনভেনশন থেকে দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। কনভেনশনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট-ভাইস-প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র-জুনিয়র অসংখ্য সিনিয়র জো বাইডেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বাইডেনকে আমেরিকার আগামীর প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন প্রত্যেকে। প্রাক্তনদের এই তালিকায় ছিলেন বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা, জিমি কার্টার, জন কেরিদের মতো রাজনীতিক!

সবকিছু ঠিক থাকলে করোনার এই দুঃসময়ে মার্কিন নির্বাচনী মাঠে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-মাইক পেন্সের বিপক্ষে লড়াই করবেন বাইডেন-কমলা জুটি।

বিজ্ঞাপন

৭৪ বছর বয়সে যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ করতে যাচ্ছেন, সেখানে ৭৭ বছর বয়সী একজন কিনা সেই পদে আসার জন্য লড়াই করবেন। এই বয়সে  আমাদের মতো সমাজে মৃত্যুর প্রহর গুণেন প্রায় সব মানুষ। বয়স শেষ বলে যাদেরকে এই সমাজে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়। সে জায়গায় জো বাইডেন লড়ছেন বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তির দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য, যাকে লড়াই করতে হবে সারাবিশ্বের সাথে, লড়াই করতে হবে আরেক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে। মানুষের স্পৃহা, যৌবন কতোটা প্রদীপ্ত হলে এমন বুকভরা সাহস আর প্রত্যাশা থাকে একবার ভাবা যায়?

বিজ্ঞাপন

জো বাইডেন এই নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন কেউ নন। একজন ঝানু রাজনীতিক। ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম অ্যাটর্নি হন তিনি। ১৯৭০ সালে  কান্ট্রি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনি পঞ্চম কনিষ্ঠতম সিনেটর। ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০২ এবং ২০০৮ সালগুলোতেও বাইডেন সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জো বাইডেন কখনোই হাল ছেড়ে দেননি। বহু আগে থেকেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে ১৯৯৮ এবং ২০০৮ সালে দলের মনোনয়নের জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু দুইবারই দলের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন।

২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে তুমুল জনপ্রিয় বারাক ওবামার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে গেলেও তিনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কখনোই প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা ও লক্ষ্য থেকে পেছনে ফেরেননি বাইডেন। সেই অদম্য স্পৃহার ফলেই সর্বশেষ ২০২০ সালে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসময়ে তৃতীয়বারে এসে সফল হলেন তিনি।

বাইডেনের  চেয়ে বয়সে জুনিয়র জর্জ ডব্লিউ বুশ (৭৪ বছর), বারাক ওবামা ৫৯ বছর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (৭৪ বছর) প্রেসিডেন্টের শখ পূরণ করে ফেললেও ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেন সেই শখের জন্য লড়াই করছেন নতুন করে। তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি হবেনই-এমন অদম্য স্পৃহা নিয়েই হয়তো ছিলেন। এই অদম্য স্পৃহাই হয়তো আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচনে তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতিয়ে দেবে।

ডেমোক্র্যাট দলের কনভেশনে মনোনয়ন পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার তার রাজনীতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়েছেন।

বক্তব্যের শুরুতে বাইডেন দলের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার প্রতি আস্থা রাখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি এমন একজন মহান ব্যক্তির সঙ্গে ৮ বছর পাশাপাশি থেকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি।

বিজ্ঞাপন

বাইডেন বলেন, আমাকে এই মুহূর্তে কিছু বলতে দিন, যা যথেষ্ট হবে না। আপনি সত্যি দুর্দান্ত প্রেসিডেন্ট, এমন কিছু দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন যা থেকে আমাদের শিশুরা শিখতে পারে। কিন্তু হোয়াইট হাউস আজ সম্পূর্ণ বিপরীত পথে। তিনি, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার জনগণকে উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করছেন।

জো বাইডেন বলেন, আমেরিকার তরুণরা দেশের বৈষম্য এবং সঙ্কুচিত হওয়া সুযোগগুলো সম্পর্কে অবগত। এমন একটি মুহূর্তের জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। আমেরিকা বর্তমানে সবচেযে জটিল সমস্যা-সংকটের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, তবে সর্বোচ্চ বিপদের পরে সর্বোচ্চ সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হয়। আগামী নির্বাচনে ব্যালটেই তা প্রমাণ হবে। শালীনতা, বিজ্ঞান, গণতন্ত্র-এগুলো সবকিছু ব্যালট থেকেই আসবে‘।

বাইডেন জানান, ট্রাম্প এই দুঃসময় মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রথম পদক্ষেপ হবে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। আমি বুঝতে পারছি যে, এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের অর্থনীতি ফিরে পাবো না এবং আমাদের শিশুদের নিরাপদে রাখতে পারবো না। তাই আমার সর্বপ্রথম কাজ হবে, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমেরিকাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছেন উল্লেখ করে বাইডেন  প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমাকে যদি আপনারা প্রেসিডেন্টের ভার অর্পণ করেন, তবে আমি আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের দিকে এগিয়ে যাবো। আমি অন্ধকার নয়, আলোর মিত্র হয়ে যাবো‘।

এরপর তিনি সমাজকর্মী ইলা বাকেরের একটি উক্তি উল্লেখ করেন-

বাইডেন বলেন, `Give people light and they will find the way`- ‘মানুষকে আলোকিত করুন এবং  তারা পথ খুঁজে পাবে’।

জো বাইডেনের এমন আত্মপ্রত্যয়ী বক্তব্য বলছে, তিনিই হয়তো আগামীতে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

এমনটা হলে, বয়স্ক ও অভিজ্ঞ একজন প্রেসিডেন্ট পাবে যুক্তরাষ্ট্র, আর পাবে প্রথম কোনো নারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট, যার নাম কমলা হ্যারিস।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)