চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হলিউডকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে মহামারি?

‘ফ্লু শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন সিনেমা হবে না,’ ১৯১৮ সালের ১০ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম ছিল এটি। তখন স্প্যানিশ ফ্লুতে জনজীবন থমকে গিয়েছিল।

একশো বছর পরে করোনা মহামারিতে থেমে গেছে সিনেমা জগত। সব হল বন্ধ, শুটিং বন্ধ। কিন্তু সিনেমা মুক্তি থেমে নেই। স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬০টি নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে স্ট্রিমিং সার্ভিসে।

বিজ্ঞাপন

স্ট্রিমিং সার্ভিসে মুক্তি পাওয়ার সিনেমাগুলোর অধিকাংশই কম বাজেটের। তবে বড় বাজেটের প্রতীক্ষিত ছবি যে মুক্তি পাচ্ছে না তা কিন্তু নয়। দ্য ওয়াল্ট ডিজনি তাদের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ‘মুলান’ বিক্রি করেছে ডিজনি প্লাসের কাছে। পিক্সারের ছবি ‘সোল’ মুক্তি পাবে ২৫ ডিসেম্বর। ওয়ার্নার মিডিয়া জানিয়েছে ‘ওয়ান্ডার ওমেন ১৯৮৪’ থিয়েটার এবং এইচবিও ম্যাক্সে মুক্তি পাবে এমাসেই।

করোনাভাইরাসের কারণে হলিউডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বহু সময় লাগবে। স্প্যানিশ ফ্লু এর পরে, ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল এবং সেগুলো স্টুডিওতে পরিণত হয়েছিল। কোভিড-১৯ ও নতুন করে হলিউডকে গড়ছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করে দিচ্ছে নির্মাতাদের।

অনলাইনে ছবি মুক্তি, ডিজিটাল প্রচারণা, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়, থিয়েটারে না গিয়ে ঘরে বসে ছবি দেখা, পুরো বিশ্বের সিনেমার স্বাদ পাওয়া, খুব অল্প সময়ে সব বদলে গেছে। পুরো পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে গেছে যে হলিউড আবার আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রযোজকরা মনে করছেন, ঘরে বসে সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে ওঠায় দর্শককে আবার হলে ফেরানো কঠিন হয়ে যাবে। এতে থিয়েটার মালিকদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এএমপি