চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে ভালোবাসা

১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঠিক ফাগুনের প্রথম প্রহরে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরে মহসীন হলের সামনে সরকারি ছাত্র সংগঠনের গুলিতে নিহত হন রাউফুন বসুনিয়া।
১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা রাস্তায় নামলে তৎকালনীন সামরিক শাসক এরশাদের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রদের মিছিলে বৃষ্টির মত গুলি বর্ষণ করা হয়।

এতে নিহত হন জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দিপালীসহ আরও অনেকে। এটা ছিল এরশাদ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ। যদিও তৎকালীন মিথ্যা প্রেসনোটে মৃতের সংখ্যা দুই দিনে দু’তিন জন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সেই আন্দোলনের সূচনা হয় এরশাদ সরকার প্রস্তাবিত মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে। একটি সাম্প্রদায়িক ও ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির শিক্ষানীতি চাপিয়ে দিয়ে দেশের শিক্ষাকে পিছিয়ে দেয়ার এই ষড়যন্ত্র ছাত্রসমাজ মেনে নিতে পারেনি। পরবর্তীকালে এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নব্বই সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন হয়।

এই আন্দোলন সংগ্রাম ছিল দেশকে ভালোবেসে। ভালোবাসার ব্যপ্তি যখন ব্যক্তি থেকে ছড়িয়ে পড়ে আরো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে তখন সেই ভালোবাসার রঙটাও এরকমই হয়। আজকাল ভালোবাসা দিবস নিয়ে আমাদের প্রজন্ম যেমন উচ্ছ্বসিত, ততেটাই ছিল তৎকালীন প্রজন্মের দেশকে ভালোবাসার দুর্মর আকাঙ্খা। এই প্রজন্ম বা এই সময় পৃথিবী যেমন বদলে গেছে নানা রাজনৈতিক কার্যকারণে, তেমনই মূল্যবোধেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এই মূল্যবোধে আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতার যেমন অভাব, তেমনি পূর্বসূরীদের ব্যর্থতাও আছে। তাই প্রজন্মের এই ভালোবাসার উচ্ছ্বাসকে সঠিক রাজনৈতিক সচেতনতার দিকে নিয়ে যেতে পারলে আমাদের অ্যান্টি পলিটিকস প্রজন্মের দুর্নাম ঘুচবে। প্রয়োজনে এই প্রজন্মও যে দেশের ক্রান্তিকালে দাঁড়াতে পারে সঠিক সময়ে, সেটা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে।

সুতরাং যারা ভালোবাসা দিবস নিয়ে উচ্চকিত, তাদেরও নিরাশ করা যাবে না। আমাদের পূর্বসূরীদের গৌরবগাঁথাকে যেমন ভালোবাসা শ্রদ্ধা জানাতে হবে, তেমনই এই প্রজন্মের মাঝে প্রকৃত দেশপ্রেম ছড়িয়ে দিতে হবে।

স্বৈরাচারী সরকারবিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদ রাউফুন বসুনিয়া, জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন ও দিপালীসহ সকল শহীদদের আত্মদানের প্রতি আজকের দিনে আমাদের অতল শ্রদ্ধা। অন্যায় প্রতিরোধে ছাত্রসমাজ যেন সর্বদাই জেগে ওঠে এই মাতৃভূমির ক্রান্তিলগ্নে সেই কামনা করি।আমরা আমাদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সামনে এনে, শহীদদের স্মরণ করে, এই প্রজন্ম নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। এই হোক আজকের দিনের শপথ।