চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বেচ্ছা ভিত্তিতে সেবা দিচ্ছেন ৪ হাজার চিকিৎসক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনার সংকটকালীন সময়ে রোগীরা যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য স্বেচ্ছা ভিত্তিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৪ হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

ডা. নাসিমা বলেন, স্বেচ্ছা ভিত্তিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৪ হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক। এছাড়াও করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দেশে এক ঝাঁক চিকিৎসকরা বিনা মূল্যে অনলাইনে জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সংকটকালীন এ সময়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে আস্ক ডাক্তার (ask doctor) অ্যাপস। ২৬ মার্চ উন্মুক্ত হবার ১ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে গুগলের হেলথ অ্যান্ড ফিটনেস ক্যাটাগরিতে টপ চার্টে চলে এসেছে অ্যাপসটি। প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার মানুষ ফোন কলে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিচ্ছেন। যার পেছনে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন প্রায় ১২’শ চিকিৎসক।

আস্ক ডক্টর অ্যাপস মেডিকেল অ্যাডভাইজার ডা. মুহিব্বুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারা এই অ্যাপসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। যেকোনো পেশার মানুষ এই অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন।

‘ফ্রি ভার্চুয়াল মেডিকেল ক্যাম্প’ নামে অনলাইনে বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে বেস্ট এইড। এতে ১৫ জন জুনিয়র এবং ১৭ জন সিনিয়র ডাক্তার রয়েছেন। মানুষ স্বাস্থ্যগত যেকোন সমস্যা নিয়ে বেস্ট এইডের ফেসবুক পেইজে মেসেজ পাঠালে ডাক্তাররা তার উত্তর দিচ্ছেন। সব ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আলোচনা করা যাবে এই প্লাটফর্মে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে। গুরুতর কোন কিছু হলে বেস্ট এইড থেকে ফোন করে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বেস্ট এইড এর সিইও মীর হাসিব মাহমুদ জানান, ‘এরই মধ্যে ৭০০ এর অধিক মানুষকে অনলাইনে ফ্রি সেবা দিয়ে আমরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে থাকতে পেরেছি। এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন ১৭ জন। যে কেউ যেকোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার জরুরি সমাধান পেতে হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন এই ০১৫৩৩৪৪৩১১৮ নাম্বারে, অথবা ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/bestaidbd/ তে।’

দীর্ঘদিন থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসা ডেসপারেটলি সিকিং ডক্টরস গ্রুপ যুক্ত করেছে ১০টি হটলাইন নাম্বার। এই গ্রুপে রোগীর যে কোনো সমস্যা ছবি তুলে পাঠালে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ডেসপারেটলি সিকিং ডক্টরস গ্রুপ প্রতিষ্ঠাতা ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, ‘প্রায় ৩০০ জনের মতো ডাক্তার আমরা এখানে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। নিয়ম মেনে যেসব ওষুধ দেয়া সম্ভব সেগুলো দিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা ডক্টরোলা তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে যোগাযোগের কাজটি করে দিচ্ছে।

এছাড়া চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন এফডিএসআর ৬টি শিফটে অনলাইনে সেবা দিচ্ছে। যেখানে রোগী হটলাইন নাম্বারের মাধ্যমে তার সমস্যা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন।

এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেক ডাক্তার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে রোগীদের করোনাভাইরাস সম্পর্কে এবং নানান সমস্যা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ডাক্তার ফেসবুকে নিজের মুঠোফোন নাম্বার শেয়ার করে বলেছেন শারীরিক যে কোন সমস্যায় তাদের ফোন দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে রোববার পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ হাজার ৭৭ জন।